জিয়াউর রহমান আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন, জামায়াতকে আমান
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৬ পিএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার অংশ নিয়ে আমানউল্লাহ আমান এ কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আমানউল্লাহ আমান বলেন, ওয়ান-ইলেভেন হলো, গ্রেপ্তার করা হলো। জেলে গেলাম।
আমাদের পাশে দুই-তিনটা রুম পরেই আজকের প্রধানমন্ত্রী অবস্থান করছেন। জেলখানায় ১১ নম্বর সেলে। নিয়ে গেলেন তাকে রিমান্ডে। গেলেন ভালো, সুস্থ। ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন স্যারসহ আমরা বিদায় দিলাম। আসার সময় আসতে পারছেন না। মানুষ ধরে উঁচু করে স্ট্রেচার দিয়ে তাকে নিয়ে আসা হলো। কী দোষ ছিল তারেক রহমানের? তার কোমর ভেঙে দিতে হবে? কী দোষ ছিল? চোখ বেঁধে তাকে ওপর থেকে ফেলে দেবে? তার পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন, বিদেশে চিকিৎসায় ছিলেন এবং সেখান থেকে এই বাংলাদেশে ১৭ বছরের আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।
‘তার আওয়াজ ছিল—বিনা ভোটের এমপিদের সংসদ থেকে বের করতে হবে। তার আওয়াজ ছিল, তার প্রতিধ্বনি ছিল—আমরা করেছি যে সচিবালয় থেকে অবৈধ মন্ত্রীদের বের করতে হবে। তার আওয়াজ ছিল—সে প্রতিধ্বনি দিয়ে আমরা এগিয়ে গিয়েছি মাঠে। আমরা বলেছি, অবৈধ ভোটচোর শেখ হাসিনাকে বের করতে হবে গণভবন থেকে। সেটাই কিন্তু হয়েছে। এই সংগ্রামে ইলিয়াস আলী আজকে কোথায়? ইলিয়াস আলীর সন্তানরা আজকে তার বাবার কবর জিয়ারত করতে পারবে না। কোথায় তার কবর? সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়া পরিবার, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি। সুমনের কবর কোথায়, চৌধুরী আলমের কবর কোথায়—কে দেবে এর জবাব? তাই আজকে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যমে যেভাবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, কৃষকদের ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কাজ করছেন—তাকে সহযোগিতা করুন।’
আমানউল্লাহ আমান বলেন, কারণ জিয়াউর রহমান কিন্তু ১৯৭৯ সালে আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছেন। অতএব জিনিসটা বুঝতে হবে। অতএব এ দেশের অবশ্যই ইতিহাস আছে—একদিকে মীর মদন, মোহনলাল, আরেক দিকে মীর জাফর। আমি শুধু এই কথাটি স্মরণ করে দিতে চাই যে এমন কিছু করবেন না—এখানে একটা বলবেন, বাইরে আরেকটা বলবেন—এটা হবে না। যা বলবেন এখানেই বলতে হবে। যদি বলেন বিরোধী দলের নেতা, এটা আমার বক্তব্য না, যেটা পার্থ সাহেব বলেছিলেন। আমাদের নেতা যেমন সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেন, সকলে ধৈর্য সহকারে, সুশৃঙ্খলভাবে আপনারা বক্তব্য দেবেন, কথা বলবেন। ঠিক আপনাদেরও বিরোধী দলের নেতা আপনাদের সেই নেতাদের বলা উচিত যে বক্তব্যগুলো সেভাবে দেওয়া উচিত। কারণ এটা তো সরকার—গণতান্ত্রিক সরকার, ভোটের সরকার, নিরঙ্কুশ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত সরকার।
এবি/টিএ