যুদ্ধের নতুন লক্ষ্যবস্তু ও রণকৌশল ঠিক করছে ইরান!
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৫ পিএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সাময়িক বিরতির সময়ে সেনাবাহিনী তাদের টার্সের্গটি ব্যাংক বা লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভাণ্ডার সম্পূর্ণ ও হালনাগাদ করেছে। একইসঙ্গে সামরিক সরঞ্জামাদির ব্যাপক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বর্তমানে পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতিমূলক অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জেনারেল আকরামিনিয়া বলেন, সেনাবাহিনী এই যুদ্ধকে শেষ বলে মনে করছে না। যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই শত্রুপক্ষের ওপর আস্থার অভাবের কারণে-ইরানি বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
এছাড়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়া আলিয়ে ধাচ্ছে তারা।
মুখপাত্র জানান, যুদ্ধ সরঞ্জাম উৎপাদন এবং বর্তমান অস্ত্রের মানোন্নয়ন বিরতিহীনভাবে চলছে। ইরানের জনা বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধকালীন অবস্থার মতোই। তিনি আশ্বস্ত করেন যে শচ যদি আবারও কোনো আগ্রাসনের পথ বেছে নোঃ তবে তারা ইরানের সম্পূর্ণ নতুন অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক রণকৌশল এবং নতুন রণক্ষেত্রের মুখোমুখি হবে।
আকরামিনিয়া শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন হুমকি বা আক্রমণ আগের চেয়ে আরও বেশি বিধ্বংসী ও চূর্ণবিচূর্ণকারী জবাবের সম্মুখীন হবে। তিনি আরও বলেন ইরানের কাছে এমন অনেক তুরুপের তাস রয়েছে যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। পূর্ববর্তী যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরান যুদ্ধের নতুন সরঞ্জাম ও পদ্ধতি আয়ত করেছে, যা যেকোনো ভবিষ্যৎ হামলায় আরও শক্তিশালী ও চূড়ান্ত আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি শাসগোষ্ঠী ইরানের ওপর বিনা উস্কানিতে এক আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু করে। সেই হামলায় তৎকালীন ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উদ্ধতিন সামরিক কর্মকর্তা শহীদ হন।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী টানা ৪০ দিন ধরে দখলকৃত অঞ্চল এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ১০০টি পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যাতে শত্রুপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ইসলামাবাদের আলোচনার পথ সুগম করে। ওই আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে, যার মধ্যে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় ফেরার বিষাটি মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, অব্যাহত নৌ-অবরোধ মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই এক চরম লঙ্ঘন।
এমআর/টিএ
সূত্র: তাসনিম নিউজ