ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রদলের বৈঠকক্যাম্পাসে গুজব-অপতথ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় ছাত্রদল
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪২ পিএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে ছাত্রদল ও বিএনপির বিরুদ্ধে গুজব, অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিল শাখা ছাত্রদল। বেঁধে দেওয়া সময় শেষে তদন্তের অগ্রগতি জানতে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।
বুধবার বিকালে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা উপাচার্য কার্যালয়ে যান।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার প্রমুখ। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা ইতিপূর্বে দেওয়া স্মারকলিপির বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ জানতে চান।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, বিগত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনীতি, সমাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সচেতন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে বিরামহীন গুজব, অপতথ্য ও অশালীন আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এ অপসংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকদের অভিযুক্ত করে উপাচার্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিটির রিপোর্ট দ্রুতই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি ওই রিপোর্টে সচেতন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চলমান হেনস্তা, গুজব ও অপতথ্যভিত্তিক উস্কানির বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না আসে, তবে আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
অন্যদিকে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখেছি ক্যাম্পাস মব সংস্কৃতির আঁতুরঘরে পরিণত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি দেশে যেমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়েও তেমন পরিবেশ বিরাজমান।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। তাই দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রতিফলন বিশ্ববিদ্যালয়েও থাকবে বলে তারা আশা করেন।
গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, আমরা সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। রাজনৈতিক চর্চা করতে গিয়ে আমরা কখনোই সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। আমরা এমন রাজনীতি করতে চাই, যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সচেতন হয়ে আমাদের সহযোগিতা করে এবং তাদের মতামত ও পরামর্শ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউটি/টিএ