দুর্নীতিতে ‘ডুবে থাকা’ এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের সম্পদের পরিমাণ কত?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৩ পিএম | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
বর্তমানে বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ফয়সাল এক সময় যুগ্ম কর কমিশনার ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল আটকে রেখে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ গড়ে তোলেন, যার ফলে রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে মোট প্রায় ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে এ কর্মকর্তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছেন।
মামলায় আসামিরা হচ্ছেন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল, তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন, শ্যালক আফতাব আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, ভাই কাজী খালিদ হাসান, মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ, খালা রওশন আরা খাতুন, খন্দকার হাফিজুর রহমান, বোন ফারহানা আক্তার, মা কারিমা খাতুন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজী নূর-ই-আলম ছিদ্দিকী।
এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় প্লট, ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দেশের একটি গণমাধ্যমর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার ও স্বজনদের নামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফয়সাল ও তার স্বজনদের নামে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি শেয়ার বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার আমানত রয়েছে।
দুদক বলছে, অবৈধ অর্থ বৈধ করার জন্য ফয়সাল একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক জাল তৈরি করেন। তিনি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানিয়েছে দুদক।
কেএন/এসএন