© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা সম্মানজনক নয়: সালাহউদ্দিন

শেয়ার করুন:
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা সম্মানজনক নয়: সালাহউদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১২ পিএম | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং এটি এখন সংসদীয় আইনে সাব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় ইস্যু নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা জাতির জন্য সম্মানজনক নয়। যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন অথচ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দ্বিধায় থাকেন তাদের বোঝা উচিত, ইতিহাসের আকাশে যারা তারা হয়ে আছেন; তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ফসল। কোনো একক শক্তি নয়, বরং ছাত্র-জনতা ও বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।’ এ সময় জুলাই জাতীয় সনদকে পাশ কাটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রক্রিয়াকে ‘ফ্রডুলেন্ট’ বা প্রতারণামূলক বলে আখ্যা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সংসদকে অবজ্ঞা করে বাইরে ভিন্ন পন্থায় সংবিধান সংস্কারের চেষ্টা আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘জুলাই সনদের মূল দলিলের সঙ্গে বর্তমান কর্মকাণ্ডের কোনো মিল নেই। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এমন আদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে দেয়? ১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ যখন কোনো গণভোট হয়নি, তখন কোন এখতিয়ারে ব্লু পেপারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম তৈরি করা হলো? এটি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়। বড় সংস্কারের জন্য জনগণের সরাসরি রায় বা গণভোটের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে এসে সংবিধান সংশোধনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে কোনো বিশেষ দলের ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ এবং বিরোধী দলের গঠিত ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’র কঠোর সমালোচনাও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিরোধী দল এনসিপিকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে ‘উজিরে খামখা’ বা মন্ত্রী সেজে থাকার সুখ পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে প্রকৃত দায়িত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, একটি দল দীর্ঘ দিন ৭১’র চেতনা বিক্রি করতে করতে নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন আবার জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে নতুন করে ব্যবসার চেষ্টা চলছে। জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের নয়, এটি এ দেশের সকল মানুষের ত্যাগের ফসল। এই চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করার অপচেষ্টা বিএনপি বরদাশত করবে না। সংবিধান থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও ভাষণ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধানগুলো কেন এখনো সরানো হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জাতীয় সংসদে আওয়ামী আমলে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার ও এ অর্থ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু তৈরি সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু বা ১৪টি মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে লুটপাটের যে মহোৎসব চলেছে তার চিত্র শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে। পাচার হওয়া এই বিশাল অংকের অর্থ ফেরত আনার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। কে বড় মুক্তিযোদ্ধা সেই বাহাস না করে দেশের সম্পদ রক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’

ব্যাংক দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে ব্যাংক দখল হতো গোয়েন্দা সংস্থার ভয় দেখিয়ে, আর এখন অনেকে ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে দখল করছে। এই স্টাইল বদলালেও লুণ্ঠন তো বন্ধ হয়নি। লুণ্ঠনের এই ধারা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।’

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন