শেষ হলো জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, ২৫ কার্যদিবসে ৯৪টি বিল পাস
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৪ এএম | ০১ মে, ২০২৬
মোট ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২৫ কার্যদিবসব্যাপী এই অধিবেশন শেষে বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে স্পিকার অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সমাপনী ভাষণে স্পিকার জানান, ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১২ মার্চ। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই সংসদ নির্বাচনকে তিনি ‘জনগণের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এবারের অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে এবং সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতামূলক পরিবেশ সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করেছে। তিনি আরও বলেন, সংসদের মূল লক্ষ্য হলো সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সবাইকে মতভিন্নতা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অধিবেশনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্পিকার জানান, এই অধিবেশনে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটিসহ মোট সাতটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য, যা মোট ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। এবারের অধিবেশনে ২২০ জন নতুন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো অংশ নেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী বিভিন্ন বিধিতে মোট ১,১৯৮টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭১ বিধিতে ৪২টি নোটিশ গৃহীত হয় এবং ৩৮টির ওপর আলোচনা হয়। মন্ত্রীদের জন্য ২,৫০৯টি প্রশ্ন জমা পড়ে, যার মধ্যে ১,৭৭৮টির উত্তর সংসদে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ৯৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর প্রদান করা হয়।
স্পিকার বলেন, পুরো অধিবেশনে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশ বজায় ছিল, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সমাপনী ভাষণে তিনি সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সংসদীয় আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
পাশাপাশি তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও জানান, সংসদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সম্মানী ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছেন। শেষাংশে স্পিকার বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে কৃষি, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
সবশেষে তিনি রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করছি। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
আইকে/টিএ