ফের ইরানে হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০০ এএম | ০১ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা শুরু করে তাহলে মার্কিন অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ আঘাত হবে বলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হুমকি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
সংবাদমাধ্যম সিবিসি জানিয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই মাস পরেও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ, বিশ্বের আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ এবং অন্যান্য সম্পদ, যা সাধারণত এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে, তার প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাও অচলাবস্থায় রয়েছে; ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান এখনও প্রণালীটি অবরোধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রফতানির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, যা তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন।
এর মধ্যেই একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সংঘাত অবসানে আলোচনায় বসতে ইরানকে ‘বাধ্য করার লক্ষ্যে’ ধারাবাহিক নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিষয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) একটি ব্রিফিং গ্রহণ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এই ধরনের বিকল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন পরিকল্পনার অংশ ছিল, কিন্তু বুধবার গভীর রাতে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস-এর মাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত প্রস্তাবিত ব্রিফিংয়ের খবরটি প্রাথমিকভাবে তেলের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটায়, যার ফলে এক পর্যায়ে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমে প্রায় ১১৪ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। ইরানে ‘সীমিত পরিসরে’ যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
তবে ইরানের ওপর যেকোনো মার্কিন হামলা, এমনকি তা সীমিত হলেও, আঞ্চলিক পর্যায়ে মার্কিন অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক আঘাত’ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ইরানের গণমাধ্যমে অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মজিদ মুসাভিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর কী অবস্থা হয়েছে তা আমরা দেখেছি, আপনাদের যুদ্ধজাহাজগুলোরও একই পরিণতি দেখব।’
সূত্র: সিবিসি