ইরানের নতুন প্রস্তাবে হোয়াইট হাউসের নীরবতা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫১ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। খবর আল জাজির
শুক্রবার (১ মে) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেন না।
আনা কেলি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করি না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের নতুন প্রস্তাব জমা দেয় ইরান।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রস্তাব দিলেও ইরান তাদের আগের অবস্থানই ধরে রেখেছে। দেশটি কেবল নিজ ভূখণ্ড নয়, সব ফ্রন্টেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চাইছে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনায় আগ্রহী।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার অপেক্ষা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সম্ভাব্য কোনও আলোচনা বা সমঝোতা হলে তা ইরানের সরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই জানানো হবে।
ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কাতারের হামাদ বিন খালিফা ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসির জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সুলতান বারাকাতা আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন, ইরান থেকে তাৎক্ষণিক কোনও পারমাণবিক হুমকি নেই।
বারাকাতের মতে, এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা ইরানের ধৈর্য পরীক্ষা করছে। এটি কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নয়। ইসরায়েল এখনও গ্রাম ধ্বংস করছে, মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। অথচ এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
বারাকাতের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পর নৌ অবরোধ আরোপের মাধ্যমেও ইরানের অবস্থান পরীক্ষা করেছে। যদিও ইরান এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, তবে তারা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায়নি বা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেনি। বরং বিকল্প পথ হিসেবে পাকিস্তানসহ অন্যান্য রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে তেহরান।
সব মিলিয়ে, বারাকাত মনে করেন উভয় পক্ষই এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যা তাদের জন্য সম্মানজনক হবে। তার মতে, এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব কোনও অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি শুক্রবার সকালে তুরস্ক, ইরাক, আজারবাইজান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের বার্তা পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এসকে/টিএ