© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জবির ১২ হল বেদখল, সংকটে শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন:
জবির ১২ হল বেদখল, সংকটে শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২৫ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
রাজধানীর পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উচ্চশিক্ষা নিতে এসে আবাসন নিয়ে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ১২টি আবাসিক হল থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই বহু বছর ধরে বেদখল থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে উচ্চ ভাড়ায় মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর থেকেই অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক সুবিধা হিসেবে রয়েছে মাত্র একটি হল। ২০২০ সালে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছাত্রীদের জন্য নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানি হল চালু করা হলেও সামগ্রিক সংকটের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

শুধু আবাসন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবকাঠামোতেও ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ক্যান্টিন সুবিধা না থাকায় একটি মাত্র ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার, কিংবা ফুডকোর্টে তুলনামূলক বেশি দামে খাবার কিনতে হচ্ছে।

একইভাবে পরিবহন সংকট, পর্যাপ্ত লাইব্রেরি আসনের অভাবসহ নানা সমস্যায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আবাসিক সুবিধা না থাকায় অনেকেই অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ অনুযায়ী পূর্ববর্তী জগন্নাথ কলেজের অধীনে থাকা ১২টি হলের অস্তিত্ব নথিভুক্ত রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকে এসব হল বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যায়।

২০০৯ সাল থেকে একাধিকবার তদন্ত কমিটি গঠন, লিজ বাতিল এবং জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।

বেদখল হওয়া এসব হল পুনরুদ্ধারে বর্তমানে প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক ক্ষেত্রে মালিকানা নিয়ে বিরোধ, ভুয়া কাগজপত্র এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারও শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। তবুও ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও সম্প্রতি নতুন করে গতি পেয়েছে। গত ৩১ মার্চ পুরান ঢাকায় অবস্থিত আব্দুর রহমান হল খালি করার জন্য দখলকারীদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয় জবি ছাত্রদল। একই সঙ্গে বাণী ভবনের জমি ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হলেও প্রশাসন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক হলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে এবং সবগুলো পুনরুদ্ধার করা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে মালিকানা দাবি কিংবা আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। তবুও আইনগতভাবে যতটুকু সম্ভব সম্পদ উদ্ধার এবং নতুন আবাসিক সুবিধা তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। চলমান প্রকল্পগুলোর জটিলতা নিরসন করে নতুন হল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েই প্রশাসন ধাপে ধাপে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবমিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বেদখল ও আইনি জটিলতার কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তবে প্রশাসনের উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সমস্যার টেকসই সমাধান কত দ্রুত সম্ভব হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন