সর্বজনীন নয়, কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনে জ্বালানি ভর্তুকি দিতে হবে: ড. ফাহমিদা খাতুন
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৩ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
জ্বালানি ভর্তুকি সর্বজনীন না করে কেবলমাত্র তিনটি খাতেই ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে জ্বালানির ভর্তুকি দেশের উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তরাও ভোগ করছে, অথচ সর্বজনীন জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের নেই। সবার ভর্তুকি পাওয়া উচিতও নয়। তাই সরকারকে কৃষি, সেচ ও গণপরিবহন খাতে ভর্তুকি দেওয়া উচিত।
শনিবার (০২ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেন।
জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা দেখাতে হবে। আইএমএফের শর্ত হিসেবে সরকার প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কমে, তখন সরকার দাম না কমিয়ে মুনাফা করেছে। এই খাতে দুর্নীতিও আছে। তাই দাম নির্ধারণের পদ্ধতি স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্যকর করতে হবে।
তিনি সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্টাডিতে উঠে এসেছে যে কূপ খননের মাধ্যমে বাংলাদেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
আসন্ন বাজেট নিয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আগামী বাজেটকে নিছক সরকারের এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে প্রণয়ন না করে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার হাতিয়ার হিসেবে প্রণয়ন করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে নিজস্ব অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করা এবং সরকারের নীতিমালার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় বাজেটে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পর্যাপ্ত নয়। রপ্তানি কমে যাচ্ছে, শুধু রেমিটেন্স দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব নয়। বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ কমে জিডিপির অনুপাতে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। ফলে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। তাহলে কীভাবে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হবে?
এই পরিস্থিতি উত্তরণে বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম এবং দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে কিছু সময়ের জন্য নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়ে ওএমএস এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো উচিত। তিনি যোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের সংকটকালীন এই মুহূর্তে সরকারের উচিত একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, সাবধানী, টেকসই, সুষম ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রণয়ন করা। যাতে নিম্ন মধ্যবিত্তের ওপর কোনো চাপ তৈরি না হয়, জনভোগান্তি না বাড়ে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় ও বিনিয়োগ বাড়ে।
আরআই/টিএ