© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়ায় ইউরোপকে প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জার্মানির

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়ায় ইউরোপকে প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জার্মানির

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১২ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইউরোপের দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা। এতে তারা নিজেদের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করার দিকে জোর দেবে।

পেন্টাগন শুক্রবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে। জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের এটি সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এই সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, এই সিদ্ধান্তটি আগেই প্রত্যাশিত ছিল। এর আগে ট্রাম্প জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের সঙ্গে তর্কে জড়ান, কারণ মের্জ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, জার্মানিতে বর্তমানে থাকা প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনার ওপর এই আংশিক প্রত্যাহারের প্রভাব পড়বে। তবে সক্রিয় সেনার সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরো বেশি করে নিতে হবে।

জার্মানি ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী বাড়ানো, দ্রুত অস্ত্র কেনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সঠিক পথে এগোচ্ছে।

জার্মানি তাদের সেনাবাহিনী বুন্দেসভেয়ারর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১ লাখ ৮৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে নিতে চায়। তবে কিছু সমালোচক বলছেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় আরো বেশি বৃদ্ধি প্রয়োজন। এদিকে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাজেট সংকট ও সামরিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে ইউরোপের আরো কয়েক বছর সময় লাগবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুরু হয় দখলদার বাহিনী হিসেবে। বিশেষ করে ১৯৬০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকাতে সেখানে লক্ষাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক স্থাপনার মধ্যে আছে রামস্টাইন বিমান ঘাঁটি এবং ল্যান্ডস্টুল আঞ্চলিক মেডিকেল সেন্টার। এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে ইরান যুদ্ধসহ আগে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে সহায়তার জন্য।


পেন্টাগনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি পুরো ব্রিগেড জার্মানি ছেড়ে যাবে। এ ছাড়া এ বছর যে দূরপাল্লার অস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করার পরিকল্পনা ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ করে এই দূরপাল্লার অস্ত্র ইউনিট বাতিল হওয়াটা জার্মানির জন্য বড় ধাক্কা। কারণ এটি ইউরোপ নিজেদের এমন অস্ত্র তৈরি করার আগ পর্যন্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে কাজ করার কথা ছিল।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন