© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলল চীন

শেয়ার করুন:
তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলল চীন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৮ এএম | ০৩ মে, ২০২৬
বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে। কোনো দেশই তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন চীন প্রজাতন্ত্রের (তাইওয়ান) প্রেসিডেন্ট লাই চিং।

আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি সফরে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এসময় দেশটির রাজা তৃতীয় মস্বাতিকে প্রেসিডেন্ট লাই চিং বলেন, এই সফরটি বেইজিং থামানোর চেষ্টা করেছিল এবং চীন তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার হঠাৎ করেই রাজা মস্বাতির আমন্ত্রণে এসওয়াতিনিতে পৌঁছান লাই। সফরটি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি, যা কূটনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সচরাচর ব্যবহৃত একটি কৌশল। এর আগে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেইজিং এই সফর ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল।

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বিরোধিতা করে আসছে। তবে তাইওয়ান সরকার এ অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

লাই চিং বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (তাইওয়ান) একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার তার রয়েছে। তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বে অংশগ্রহণের অধিকার আছে-কোনো দেশই তা থামাতে পারে না।’

এদিকে গত মাসে লাইয়ের এই সফর ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।

তাইওয়ানের অভিযোগ, চীনের চাপের মুখে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশ তার বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে। ফলে সফর পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়।

এসওয়াতিনি বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা মাত্র ১২টি দেশের একটি। প্রায় ১৩ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি আফ্রিকায় তাইওয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক অফিস লাইয়ের এই সফরের তীব্র সমালোচনা করে।

সংস্থাটির এক মুখপাত্র তাকে ‘ইঁদুরের মতো লুকিয়ে চলা’ বলে কটাক্ষ করেন এবং বলেন, তার এই আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে।

এর জবাবে তাইওয়ানের চীন-নীতি প্রণয়নকারী মূল ভূখণ্ড বিষয়ক পরিষদ জানায়, লাই কোথায় যাবেন, সে জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই। চীনের বক্তব্যকে তারা ‘অত্যন্ত নিম্নমানের ও অশালীন ভাষা’ বলে অভিহিত করে।

লাইয়ের সফর ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং চীনের ভূমিকার সমালোচনা করেছে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন