হাতি থেকে বাঁচাতে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৫ পিএম | ০৩ মে, ২০২৬
প্রায় ৩ যুগের বেশি সময় ধরে বন্যহাতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে শেরপুরের তিনটি উপজেলায় পাহাড়ি এলাকার মানুষ। বনে খাদ্য সংকটে ক্ষুধার্ত বন্যহাতির দল হানা দিচ্ছে কৃষকের পাকা ধানক্ষেতে। নানা কৌশলে ফসল রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে আধা-পাকা ধান কেটে আনছেন বাড়িতে। হাতির আক্রমণে নষ্ট হওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।
অন্যদিকে হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বনমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলেন স্থানীয় সাংসদ।
পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিনই বন্যহাতির তাড়া খেয়ে অভ্যস্ত। পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় পেটের টানে ফসলের ক্ষেতে ছুটে আসে ক্ষুধার্ত বিশালদেহী এসব প্রাণী। খেয়ে সাবার করে দিচ্ছে পাকা ধানের ক্ষেত। ধান পাকার সময় ঘনিয়ে এলেই শেরপুরের শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি এলাকার ফসলের ক্ষেতে নেমে আসে বন্যহাতির পাল। হাতির আক্রমণ ঠেকাতে আগুন জ্বালিয়ে, ঢাক-ঢোল পিটিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না ক্ষেতের পাকা ধান।
সম্প্রতি হাতির আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কাচা-পাকা ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। আধা-পাকা ধানে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় আর্থিক লোকসানও গুনতে হচ্ছে তাদের। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল রক্ষায় বনের ভেতর জরুরি ভিত্তিতে হাতির পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী এলাকার খ্রিস্টান পাড়া গ্রামের কৃষক ইলিয়াছ সাংমা বলেন, ‘প্রত্যেক বছর ধান পাকার সময় এলেই হাতির পাল এসে ধান খেয়ে যায়। এবছর আমি ঋণ করে ধানের আবাদ করেছি। হাতির পাল ধান খেয়ে গেলে আমি পথে বসে পড়ব, তাই আধাপাকা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।’
ঝিনাইগাতীর পাহাড়ি গ্রাম নকশীর বাসিন্দা কৃষক রমিজুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রায় ৩৫/৪০ বন্যহাতির একটি পাল এসে আমাদের গ্রামের অনেকের আধাপাকা ধান খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে সর্বনাশ করে দিয়েছে। তাই হাতির ভয়ে পাকার আগেই ধান কেটে ফেলছি। হাতির আক্রমণ হলে এইটুকুও পাওয়া যাবে না।’
শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ জানান, পাহাড়ি এলাকায় প্রতিবছরই হাতির আক্রমণে কৃষকের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়। বন্যহাতির আক্রমণে যাদের ফসল নষ্ট হয়, সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। এবছর যেসব কৃষকের ক্ষেতের ফসল বন্যহাতির আক্রমণে নষ্ট হয়েছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। সঠিক যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।’
বন্যহাতি যেন লোকালয়ে না আসে, বনে যাতে তারা পর্যাপ্ত খাবার পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে হাতির খাবার উপযোগী গুল্মজাতীয় গাছ বনে রোপণ করা হয়েছে। তবে, যে পরিমাণ গুল্ম-লতাপাতার গাছ লাগানো হয়েছে, তা অপ্রতুল। আরও বৃহৎ পরিসরে হাতির খাবার উপযোগী গাছ লাগানো গেলে লোকালয়ে হাতির আক্রমণ অনেকটা করে যাবে বলে জানালেন, ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুড়ী রেঞ্জের রেঞ্জার সুমন মিয়া।
হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপি দলীয় সাংসদ মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
বন বিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী এলাকায় তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় শতাধিক হাতি রয়েছে।
টিজে/টিএ