আমার জানাজা পড়ানোর জন্য ওয়াহাবি বা জামায়াতের প্রয়োজন নেই: ফজলুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১২ পিএম | ০৩ মে, ২০২৬
যারা জানাজা পড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন, তারা মূলত জামায়াতের লোক। এমন মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।
শনিবার (২ মে) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ফসল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
জানাজা বয়কট করার ঘোষণা প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “জানাজা পড়ানোর বিষয়টি কি তারা নির্দিষ্ট করে ফেলেছে? নির্বাচনের আগে যেমন তারা বেহেশতের টিকিট দিয়ে দিয়েছিল, তেমনি কি তারা ঠিক করে ফেলেছে আজ বা কবে আমার মৃত্যু হবে? যিনি আমার জানাজা পড়াবেন না বলছেন, তাকে তো আমার আগেও আল্লাহ নিয়ে যেতে পারেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানুষের মৃত্যু এবং জানাজার মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা।
নিজের ধর্মীয় ও আদর্শিক অবস্থান পরিষ্কার করে ফজলুর রহমান জানান, তিনি বংশানুক্রমিকভাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী এবং সুফিবাদী ধারার মানুষ। তার মতে, এ দেশে যতদিন ওলি-আউলিয়া ও দরবেশদের ধারা থাকবে, ততদিন তিনি সেই পথেই চলবেন। তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর রাসূলে (সা.) ও পবিত্র কুরআনে বিশ্বাসী মানুষ। আমার জানাজা পড়ানোর জন্য ওয়াহাবি বা জামায়াতের প্রয়োজন নেই। আমার বহু পীর, আউলিয়া ও দরবেশ আছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমার দেহ যখন তাদের সামনে রাখা হবে, জানাজা পড়ার মানুষের অভাব হবে না।”
সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের এক নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি ঘোষণা দেন যে, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন এবং আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না। রাজনীতি ছাড়ার পর তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে আধ্যাত্মিক পথে জীবন অতিবাহিত করবেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণকে তিনি স্রষ্টাকে পাওয়ার এক পবিত্র ও আশাব্যঞ্জক সূচনা হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতি ছাড়ার পর থেকে তিনি পুরোপুরি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথে চলবেন।
জানাজা ও ধর্মীয় বিতর্কের বাইরেও সংসদ সদস্য এদিন হাওর অঞ্চলের বোরো চাষিদের সমস্যার কথা শোনেন। অকাল বন্যায় ডুবে যাওয়া ফসল পরিদর্শন করে তিনি কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইউটি/টিএ