মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বাপ্রশাসনের উদাসীনতায় শামারুহ মির্জার ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৭ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
নেত্রকোনায় মাদ্রাসার এক নাবালিকা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দেশের বিবেক। এ ঘটনায় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী ড. শামারুহ মির্জা।
শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেন।
ড. শামারুহ লেখেন- ‘পুরো বাংলাদেশের যে ইস্যুতে এখন ক্ষোভে ফেটে পড়া উচিত, তা হলো নেত্রকোনার ঘটনাটি। মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীর গর্ভধারণ এবং শিক্ষকই অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনাকে তিনি সুস্থ সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর চলমান পাশবিক নির্যাতনের খতিয়ান তুলে ধরে শামারুহ প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি বুঝতে পারছি, শত শত ‘পারভার্ট’ আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে?’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যখন সংবিধান সংস্কার বা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে দেশ তোলপাড়, তখন শিশুদের ওপর হওয়া এই বর্বরতা নিয়ে সবাই কার্যত চুপ। মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ অস্বচ্ছতা ও ধর্মীয় দোহাই দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতাকেও তিনি দায়ী করেন।’
কেবল নিন্দা নয়, এই সংকট নিরসনে শামারুহ মির্জা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন:
‘প্রতিটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সম্বলিত একটি ডাটাবেজ তৈরি করা।
শিশু সুরক্ষা নীতিমালা গ্রহণ এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি করা।’
তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এমন ঘটে থাকতে পারে, কিন্তু সেটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
এসকে/টিএ