পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের ফলাফল
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫৫ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়লো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গের পতন ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। দখলে নিয়েছে ২০৬টি আসন, যেখানে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। অন্যদিকে, বিদায়ী শাসক দলের মন্ত্রিসভার অনেক তারকা প্রার্থী হেরেছেন। এমনকি দলের প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হেরেছেন। তেমনি হেরেছেন বিজেপির অনেক তারকা প্রার্থীও।
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের কাছে হেরেছেন ১৬ হাজার ৯৫৬ ভোটে। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে বরাহনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ চক্রবর্তী: ব্যারাকপুর থেকে হেরে গেছেন তৃণমূলের আরেক তারকা প্রার্থী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। দ্বিতীয়বারের মতো ব্যারাকপুরের ভোটের মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু ১৫ হাজারের বেশি ভোটে তিনি বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে হেরে যান।
দেবাশিস কুমার: রাসবিহারী আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস কুমার বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটে হেরে গেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন তিনি। রাসবিহারী কেন্দ্র মানেই অভিজাত, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির বসতি।
সোহম চক্রবর্তী: ভোটে হেরেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। তৃণমূলের হয়ে লড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। দমদমেও তৃণমূলের বড় ধাক্কা। শিক্ষামন্ত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু বিজেপির অরিজিৎ বক্সীর কাছে ২৫ হাজার ২৭৩ ভোটে হেরে যান।
হিরণ চ্যাটার্জি: শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হলেন বিজেপির হিরণ। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে শ্যামপুরের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছেন হিরণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘুরেছেন।
রুদ্রনীল ঘোষ: তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে হারিয়ে জিতেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। দীর্ঘ সময় তৃণমূলঘনিষ্ঠ থাকার পরে একুশের নির্বাচনের আগে দিল্লিতে অমিত শাহর বাড়ি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন রুদ্রনীল।
শ্রেয়া পাণ্ডে: বিজেপির প্রবীণ নেতা তাপস রায়ের কাছে ১৫ হাজার ৬৪৪ ভোটে হেরেছেন শ্রেয়া পাণ্ডে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকতলার বিধায়ক শ্রেয়ার বাবা সাধন পাণ্ডে মারা যান। পরে ওই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তাঁর স্ত্রী সুপ্তি। এ বারের নির্বাচনে কন্যা শ্রেয়াকে প্রার্থী করে তৃণমূল।
শশী পাঁজা: তৃণমূলের হয়ে এ বারও শ্যামপুকুর আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ছিলেন বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ১৪ হাজার ৬৩৩ ভোটে শশীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পূর্ণিমা। শশী পাঁজা সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজার পুত্রবধূ।
রত্না চট্টোপাধ্যায়: বেহালা পশ্চিম আসন থেকে এ বার তৃণমূলের হয়ে নির্বাচন করেছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। ২৪ হাজার ৬৯৯ ভোটে তিনি বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ’র কাছে হেরেছেন। এর আগে ২০২১ সালে ওই আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন রত্না।
এসএ/এসএন