‘মমতা শেষ, এরপর অখিলেশ’, সতর্কবার্তা শুভেন্দুর
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৫ পিএম | ০৫ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তার দলের পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন।
আগামী বছর উত্তর প্রদেশে নির্বাচন হলে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন অখিলেশ যাদব। সমাজবাদী পার্টির এই নেতার দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু বলেছেন, ‘মমতা (বন্দ্যোপাধ্যায়), তেজস্বী (যাদব), রাহুল (গান্ধী) শেষ, এরপর অখিলেশ।’
পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার একাধিক ঘটনায় নিহত বিজেপি কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তার (মমতা) রাজনৈতিক নির্বাসন শুরু হয়ে গেছে। তিনি ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন এবং এবার ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।’
বিজেপির এই নেতা তৃণমূল কংগ্রেসকে আম আদমি পার্টির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, দলটির পতন ঘটবে। তিনি তৃণমূলকে দুর্নীতিগ্রস্ত, পরিবারকেন্দ্রিক এবং আদর্শহীন দল বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘নন্দীগ্রামের হিন্দুরা আমাকে আবার জিতিয়েছেন। সেখানকার সব মুসলিম ভোট টিএমসি-তে গেছে। হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈনরা আমাকে ভোট দিয়েছেন। এটাই হিন্দুত্ব, এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির জয়।’
সিপিএমের অনেক সমর্থকও তাকে ভোট দিয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদ ও কর্মী বিজেপির সঙ্গে যোগ দেবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগের নন্দীগ্রামের ঘটনার প্রতিচ্ছবিস্বরূপ এক নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ২০ দফা গণনা শেষে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ব্যানার্জীকে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই ফলাফল ছিল ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনেরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে শুভেন্দু এক তুমুল লড়াইয়ে মমতাকে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আখ্যানকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলোতে টিএমসি’র উত্থানের অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন শুভেন্দু। তিনিই এখন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার আলোচনায় প্রধান দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
এসএন