চীনে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ২৬
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৭ এএম | ০৬ মে, ২০২৬
চীনের আতশবাজি তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লিউইয়াং শহরের একটি কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মর্মান্তিক ঘটনার পর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট শি এই ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কোনো রকম গাফিলতি না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাশাপাশি, চীনের প্রিমিয়ার লি চিয়াং দেশজুড়ে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন।
গত সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪:৪০ মিনিটে হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরের হুয়াশেং আতশবাজি কারখানায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে পার্শ্ববর্তী কয়েক ব্লকের ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবর পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ৪৮২ জন উদ্ধারকর্মীকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠায়। কারখানার গুদামে আরও বিস্ফোরক মজুত থাকায় নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলির শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কারখানার আশপাশের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে ইতিমধ্যে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।
হুনান প্রদেশের লিউইয়াং শহরটি বিশ্বের আতশবাজি শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। চীনের মোট অভ্যন্তরীণ বাজারের ৬০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া আতশবাজির প্রায় ৭০ শতাংশই এই শহর থেকে সরবরাহ করা হয়।
উল্লেখ্য, লিউইয়াংয়ে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা গোপন করার চেষ্টা করলেও পরে তদন্তে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। বর্তমান এই বিস্ফোরণটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমআই/টিএ