© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তার মেয়ে

শেয়ার করুন:
ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তার মেয়ে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩৭ পিএম | ০৬ মে, ২০২৬
সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত দিয়েগো ম্যারাডোনা ২০২০ সালের নভম্বরে ৬০ বছর বয়সে মারা যান। মস্তিষ্কে রক্তজমাটের অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। সেই সময় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে তীব্র শ্বাসকষ্টে তার মৃত্যু হয়। তবে, তার মৃত্যুর পর তা চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত সাতজন চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে চিকিৎসায় চরম অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়।

চলতি সপ্তাহে ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ানিন্না ম্যারাডোনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই কিংবদন্তির ঘনিষ্ঠজন ও চিকিৎসক দলের একটি পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তার মৃত্যুর আগে পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল’।

জিয়ানিন্না এ বিষয়ে বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই একটি পরিকল্পনা ছিল এবং কেউ একজন এর দায়িত্বে ছিল, কিন্তু পরে বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।'

৩৬ বছর বয়সী জিয়ানিন্না এই মন্তব্য করেন সান ইসিদোরোয় চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে। সেখানে ম্যারাডোনার মৃত্যুকে ঘিরে সাতজন চিকিৎসাকর্মীর বিচার চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন নিউরোসার্জন, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন নার্স রয়েছেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় তারা চরম অবহেলা করেছেন।

সাতজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের নায়ক ম্যারাডোনা স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

জিয়ানিন্না সাবেক আইনজীবী ও ম্যারাডোনার প্রতিনিধি মাতিয়াস মোরলা এবং তার সাবেক সহকারী ম্যাসিমিলিয়ানো পোমারগোকে দায়ী করেন।

এই দুজন অবহেলার মামলার আসামি নন। তবে ম্যারাডোনার ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনায় জালিয়াতির অভিযোগে তাদের আলাদা বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সেই মামলার শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

জিয়ানিন্না বলেন, ‘আমি এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না যে তারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু মোরলা কি আমার বাবার জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চেয়েছিল? অবশ্যই।’
তিনি জানান, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে অভিযুক্তদের কয়েকজন পরিবারকে বোঝান যে নিউরোসার্জারির পর ম্যারাডোনার সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়িতেই চিকিৎসা সবচেয়ে ভালো হবে, কোনো মনোরোগ ক্লিনিকে নয়।

জিয়ানিন্নার মতে, ওই ক্লিনিকে ম্যারাডোনার আসক্তির চিকিৎসাও করা যেত। কিন্তু যদি তিনি সেখানে ভর্তি হতে অস্বীকার করতেন, তাহলে তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হতে পারত।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে মনোরোগ হাসপাতালে ভর্তি করা তাদের জন্য সুবিধাজনক ছিল না। কারণ তা হলে মোরলার অনেক কিছু ভেঙে পড়ত।’

জিয়ানিন্না আরও জানান, নিজের নামের বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ম্যারাডোনা মোরলাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষর করার ক্ষমতা তার হাতেই ছিল। সে এমনভাবে সই করতে পারত যেন আমার বাবাই সই করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যারাডোনার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে, আর সেই ক্ষমতা দিয়ে সে যা ইচ্ছা করেছে। বাবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকজন সবসময় অর্থের দিকটাই ভেবেছে, তার স্বাস্থ্যের কথা নয়।’

গত মাসে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও জিয়ানিন্না ম্যারাডোনাকে 'সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করা হয়েছিল’ বলে অভিযোগ করেন। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, সুস্থ হওয়ার জন্য ভাড়া নেওয়া টাইগ্রের একটি বাড়িতে ম্যারাডোনাকে যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছাড়াই রাখা হয়েছিল। সেখানে পরিচর্যাকারীরা নানা ধরনের অবহেলা করেন, যার ফলে তার জন্য ‘নিষ্ঠুর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

জিয়ানিন্না মনে করেন, সাত অভিযুক্তই কোনো না কোনোভাবে দায়ী, কেউ বেশি, কেউ কম। তিনি ম্যারাডোনার তৎকালীন ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকিকে দলের ‘প্রধান কণ্ঠস্বর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত দায় আছে। যে নার্সটি চলে যাওয়ার আগে বাবাকে দেখে যাওয়ার কথা ছিল, সে দেখেনি। আবার যে নার্সটি পরে এসেছিল, সেও দেখেনি।’

বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুস্থতার জন্য ভাড়া নেওয়া বাড়ির বিছানায় একা অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার যন্ত্রণার পর ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়।
জিয়ানিন্না বলেন, চিকিৎসা দলের সদস্যদের ‘একই অবস্থান’ ছিল এবং সবাই সেটাই অনুসরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘পোমারগো, যিনি মোরলার ভগ্নিপতি এবং একসময় ম্যারাডোনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলে, তিনিই আড়াল থেকে কিছুটা সুতো টানছিলেন।’

ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে পরিচর্যাকারীরা ভয় পেয়ে যান বলেও জানান তিনি। জিয়ানিন্নার ভাষায়, ‘আদালতে ব্যবহৃত অডিও বার্তাগুলোতে শোনা যায়, “আমি আইনি দিক থেকে নিজেকে বাঁচাচ্ছি।তিনি বলেন, ‘তারা কখনো কল্পনাও করেনি যে প্রসিকিউটরদের দপ্তর এত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, তাদের ফোন জব্দ করবে এবং বাড়িতে তল্লাশি চালাবে।’

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন