বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪২ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন এবং তেলের দাম কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির আশায় মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৪৫ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৩ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৫৪ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানান, তেলের দাম কমলে সাধারণত বন্ডের দাম বাড়ে এবং ইল্ড কমে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর গতি ধীর করতে পারে–এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ও রুপার মতো সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজার চাঙা হলেও তেলের দাম কমেছে। ওদিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা ১৮ মাস ধরে স্বর্ণ মজুত বাড়িয়ে চলেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মার্চ শেষে চীনের স্বর্ণ মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার আউন্স।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই উত্তাপের আঁচ লেগেছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বিশ্ববাজারে বড় লাফ দিয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮১ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া প্লাটিনাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন শুক্রবারের মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা থেকে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সম্পর্কে পরবর্তী ধারণা পাওয়া যাবে।
এমআর/টিএ