মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৮ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে সকালে ঢাকার একই আদালতে এ আবেদন করেন দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি; পরে আদেশ দেয়া হবে বলে জানানো হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার আবেদনে যাদের আসামি করার আর্জি জানানো হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার তৎকালীন প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের এবং বর্তমান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এ ছাড়া মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী ও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমসহ রাজউকের কর্মকর্তাদেরও আসামি করার আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে আসামিদের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি ‘ত্রুটিযুক্ত’ প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই উড্ডয়নের আদেশ দেয়া হয়। বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হলে ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৫ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলেও তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। অন্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে উদ্ধার কার্যক্রম ও আহতদের চিকিৎসার নির্দেশনায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোভের বশবর্তী হয়ে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমন পথ ছাড়াই ভবনটিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রাণহানি বেশি হয়েছে। রাজউক ও শিক্ষা সচিবের বিরুদ্ধে ভবনটি ‘বিপজ্জনক ও অনুপযুক্ত’ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার অনুমতি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এমআর/টিএ