© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা নিয়ে সিয়ামের গুরুতর অভিযোগ

শেয়ার করুন:
‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা নিয়ে সিয়ামের গুরুতর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৬ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণের পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্য ফাঁস করলেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ সিয়াম মৃধা। সিনেমাটি নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় তখন তা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে অভিনেতা সিয়াম মৃধা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা নির্মাণের গোমর ভক্তদের কাছে তুলে ধরেন।
 
দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের নাটক ‘কারিশমা’র শুটিংয়ের কিছু কেটে ফেলা দৃশ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা। ঈদে যখন নাটকটি টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয় তখন নাটকের নাম বদলে রাখা হয় ‘নায়িকার মেজাজ গরম’।
 
সিয়াম আরও জানান, ‘কারিশমা’ নাটকের কেটে ফেলা দৃশ্যগুলোর শুটিংয়ের সময় অভিনয়শিল্পীদের সত্য না বলে, ভুল বুঝিয়ে দৃশ্যায়ন করা হয় যা ঠিক নয়। এতে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি শোবিজের কাজের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। 
 
এর আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমা নিয়ে আপত্তি তোলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও জেবা জান্নাত। জেবা জান্নাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেবা জান্নাতের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পোস্টার প্রকাশের পর ট্রলের শিকার হয়েছে বিধায় সে এমন কথা বলছে।


 
বাংলাদেশ টাইমসের পাঠকের জন্য সিয়াম মৃধার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
 
অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করছেন, আমি ‘কন্টাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমায় আছি কি না, আবার অনেকেই হাসান জাহাঙ্গীর ভাইয়ের পুরনো ভিডিওতে কমেন্ট করছেন যে ‘সিয়াম মৃধা এ সিনেমায় আছে’। তাই সবাইকে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার করে বলতে চাই-
 
হাসান জাহাঙ্গীর ভাই আমাকে এবং জেবা জান্নাতকে নিয়ে ঈদুল ফিতরের জন্য একটি নাটক করেছিলেন। নাটকের নাম ছিল ‘কারিশমা’। এটা ছিল মিডিয়া রিলেটেড একটি গল্প, যেটা দেশের একটি গণমাধ্যমতে রিলিজ হয়েছে। আমাদের দুজনের ডেট নেয়া হয়েছিল ঈদের একটি সিঙ্গেল নাটকের কথা বলে।
 
কিন্তু পরে দেখি নাটকের নাম ‘কারিশমা’ থেকে পরিবর্তন করে ‘নায়িকার মেজাজ গরম’ নামে ঈদের ৭ পর্বের নাটক হিসেবে দেশের একটি গণমাধ্যমতে রিলিজ দেয়া হয়েছে। যেটা অলরেডি রিলিজ হয়েছে এবং আমি নিজেও প্রোফাইলে শেয়ার করেছি।
 
এখন আসি মূল কথায়। নাটকটা দেখলেই বুঝতে পারবেন আমাদের ক্যারেক্টার ছিল মিডিয়ার হিরো-হিরোইন। আমি ছিলাম হিরো আর হিরোইন ছিল জেবা জান্নাত। আর হাসান জাহাঙ্গীর ভাই নিজেই করেছিলেন ডিরেক্টরের চরিত্র।
 
প্রথম দিন শুট করলাম। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আমি সেটে বসে আছি কিন্তু কোনো শুটিংই হচ্ছে না। পরে প্রোডাকশনের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘শুট কখন শুরু হবে? আর ক্যামেরা কোথায়?’
 
কারণ চারটা ক্যামেরা ইউজ হওয়ার কথা কিন্তু একটা ক্যামেরাও সেটে নেই। তখন একজন বললো, ‘হাসান জাহাঙ্গীর ভাই গানের শুটিং করতেছে।’
 
আমি তো অবাক! আমি হিরো হয়ে সেটে বসে আছি আর ডিরেক্টর হয়ে উনি নিজেই গানের শুটিং করছেন! এরপর জেবাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুই গানের শুটিং কিভাবে করতেছিস? হিরো তো আমি!’ তখন জেবা আমাকে বললো, উনি নাকি তাকে বুঝিয়েছেন যে, ডিরেক্টর স্বপ্নের ভেতরে নায়িকার সাথে রোমান্স করছে।
 
এরপর দেখি ফাইট ডিরেক্টর অনেক ফাইটার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবারও অবাক হলাম, আমি হিরো হয়ে বসে আছি আর ডিরেক্টর নিজেই ফাইট করছে! তখন জেবাকে বললাম, ‘এত ইউটিউব টাইপ ব্লাড, ফাইট, রক্তারক্তি দেখালে তো টিভি বা ইউটিউব নেবে না।’ জেবা তখন বললো, তাকে নাকি বুঝানো হয়েছে ভিলেন তাকে আক্রমণ করেছে আর ডিরেক্টর স্বপ্নের ভেতরে তাকে বাঁচাচ্ছে।
 
এইসব করতে করতে আমার আসল শুটিং শুরু হলো বিকেল ৪টার পরে। তারপর একটানা রাত ৩টা পর্যন্ত কাজ করানো হলো। আমরা ভাবলাম, কষ্ট করছি- কাজটা যদি ভালো হয় তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু নাটক রিলিজ হওয়ার পর দেখি ওই গান, ফাইট, এসব কোনো সিকুয়েন্সই নাটকে নেই! তখন প্রশ্ন হলো সেগুলো গেল কোথায়?
 
 পরে জেবাকে নাকি বলা হয়েছে ‘চ্যানেল থেকে গান আর ফাইটের দৃশ্যগুলো কেটে দেয়া হয়েছে।’ তখন আমি বললাম, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম তাহলে অযথা এত কষ্ট করিয়ে লাভ কী?’
 
কিন্তু এখন দেখি ওইসব ফুটেজ নাকি উনার সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে! যদি এভাবে আর্টিস্টদের পুরো সত্য না বলে, ভুল বুঝিয়ে, এক কাজের ফুটেজ অন্য জায়গায় ব্যবহার করে সিনেমা বানানো হয় তাহলে ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ কীভাবে ভালো হবে?
 
বাংলা সিনেমার খারাপ সময় কাটিয়ে ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে ভালো সময়ের দিকে যাচ্ছিলো। সবাই কোয়ালিটি ফুল কাজ নিয়ে ব্যস্ত, ভালো গল্প ও প্রেজেন্টেশন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যদি এভাবে শিল্পীদের ভুল বুঝিয়ে, এক কাজের ফুটেজ আরেক জায়গায় ব্যবহার করে সিনেমা বানানো হয়, তাহলে সিনেমার বাজার কীভাবে ভালো হবে?
 
এই ধরনের কাজ যদি সিনেমা হিসেবে বাজারে আসে তাহলে দর্শক ধীরে ধীরে বাংলা সিনেমার ওপর থেকে রুচি ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। একটা ভালো ইন্ডাস্ট্রি গড়তে হলে শুধু ভিউ বা প্রচারণা না, কাজের প্রতি সততা আর প্রফেশনালিজমও দরকার।
 
এখন ওই শুটিংয়ের কিছু ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে আর সবাই ভাবছে আমরা হয়তো সিনেমাটায় কাজ করেছি। কিন্তু আসল সত্যটা এটা না। তাই সবাইকে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার করে জানালাম। আশা করি, আপনারা বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। 

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন