চবিতে ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় নাহিদ-হাসনাতের
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৭ পিএম | ০৭ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান। মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে অতিথি ভবনে যান তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।
এরপর প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ, আবাসন সংকট, গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাত শেষে উপাচার্যের পক্ষ থেকে তাদের স্মারক উপহার দেয়া হয়।
পরে তারা হেঁটে হেঁটে চাকসুতে যান এবং চাকসু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এনসিপি। সংসদের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন রাজপথে গড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছি। বিএনপি জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।’
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি। তবে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিরোধী দলের পরিসর সীমিত। আমরা চাই না আন্দোলন রাজপথে গড়াক। কিন্তু সংসদে সমাধান না হলে আন্দোলন রাজপথে যেতে পারে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে জোট নির্বাচন হতে পারে। সেই বাস্তবতায় সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নান্দনিক সৌন্দর্যের দিক থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই সমন্বয় করে আন্দোলনে অংশ নেয় এবং চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গবেষণার মানোন্নয়ন নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে আগামী বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ সব ধরনের নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, উপাচার্যের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অবস্থান যাই থাকুক না কেন, দায়িত্ব পালনে তাকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
সর্বশেষ কাটাপাহাড় সড়ক হয়ে রেলস্টেশনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারা।
টিজে/টিএ