জাহাজে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৬ এএম | ১০ মে, ২০২৬
ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
শনিবার (৯ মে) রাতে এক বার্তায় বিপ্লবী গার্ড বলেছে, যদি আমাদের জাহাজ আগ্রাসনের শিকার হয় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবকাঠামোতে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
গত শুক্রবার (৮ মে) একসঙ্গে দুটি বিশালাকৃতির ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন নৌবাহিনী। এরপরই এমন সতর্কতা দিলে বিপ্লবী গার্ড। বিপ্লবী গার্ডের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ড সতর্কতা দিয়ে বলেছে, ‘মিসাইল ও ড্রোন শত্রুদের দিকে তাক করা আছে। আমরা ছোড়ার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অবরোধ ভেঙে ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করা তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করে ইরানি সংবাদমাধ্যম। যদিও স্থানীয় এক কর্মকর্তা সেই তথ্য অস্বীকার করেছেন।
হরমুজ এলাকায় আবারও সংঘর্ষ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক সূত্র। তাদের দাবি, মার্কিন জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ করলে কঠোর জবাব দেয়া হবে।
উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির চেষ্টা করছে। যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইরানের কট্টরপন্থি ‘জেবহে-ই পায়দারি’ বা এন্ডুরেন্স ফ্রন্ট। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আদর্শকে রক্ষার দাবি করা এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতাকেই ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছে বলে উঠে এসেছে সিএনএনের প্রতিবেদনে।
এমনকি তারা আলোচনায় অংশ নেয়া ইরানি কর্মকর্তাদেরও প্রকাশ্যে সমালোচনা করছে। ইরানের নতুন নেতৃত্ব ঐক্যের বার্তা দিলেও, এই গোষ্ঠী দেশটির ভেতরে বিভক্তি আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
টিজে/টিকে