© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আসছে বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন:
আসছে বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৩ এএম | ১০ মে, ২০২৬
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনীতির ভার কাঁধে নিয়েই আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এমন আভাসই মিলেছে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে। লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবসম্মত বললেও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই সম্প্রসারণমূলক বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা দেখাতে না পারলে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে; এমন সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।


আগামী অর্থবছরে দেশের উন্নয়নে কত টাকা ব্যয় হবে, কী কী করা হবে-সে ছক নিয়েই আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, কঠিন সময়ে বাজেট দেয়ার দায়িত্ব পড়েছে নতুন সরকারের ওপর। বৈশ্বিক বাস্তবতা ও দেশের কয়েক বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি-দুটিই এখন কঠিন অবস্থায় আছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিএনপি সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হতে পারে ৬.৫ শতাংশ।

ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রবৃদ্ধি একসময় প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, সেখান থেকে আমরা নেমে এসেছি। সেই তুলনায় সাড়ে ৬ শতাংশের টার্গেট খুব বেশি নয়।

স্বৈরশাসন উতরে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ভ্যাট চালু করে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা বিএনপি এবার দুই দশক পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাজেটে নতুনত্ব আনবে- এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, বাজেট বড় করতে হবে, কারণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে বাজেটের আকার বাড়াতে হয়। তবে এর সঙ্গে সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত দীর্ঘ হলে পণ্য ও কাঁচামাল সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় এই সম্প্রসারণমূলক বাজেট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রিজার্ভে চাপ, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনীতি অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরবরাহ সংকট থাকলে সম্প্রসারণমূলক বাজেট সমস্যা আরও বাড়াতে পারে। বাস্তবায়নে যদি উৎপাদন না বাড়ায়, বরং চাহিদা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে বাজারে টাকা প্রবেশ করে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

টিজে/টিকে 

মন্তব্য করুন