দ্য অ্যাথলেটিকের দাবিবিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য সুখবর, অনিশ্চিত ভারত-চীন
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৩ পিএম | ১০ মে, ২০২৬
আর মাত্র এক মাস পরই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ফিফা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসবে। কিন্তু এখনও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে দর-কষাকষি করছে ভারত ও চীনের মতো বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ। একইভাবে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরাও অনিশ্চয়তায় ছিল। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ বলছে, বাংলাদেশের জন্য ‘স্প্রিংবক’ নামে একটি মিডিয়া আউটলেটের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা। যদিও প্রতিষ্ঠাননি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্প্রিংবকের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোনো ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিও চোখে পড়েনি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে এখন ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে ১৮০টির জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচার বা ‘ওয়াচ পার্টি’ আয়োজন নিশ্চিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্যও একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তি হবে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে সম্প্রচার স্বত্ব পেলে বিশ্বকাপের অন্যতম দুই প্রতিযোগী কুরাসাও এবং হাইতির সমর্থকরাও নিজের দলের খেলা দেখতে পারবেন।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশের (ভারত ও চীন) কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক হয়তো বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন না। কারণ চীন ও ভারতের সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর সঙ্গে এখনও স্বত্ব নিয়ে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে ফিফা। খবরটি বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফিফা যদিও রয়টার্সকে জানিয়েছিল– তারা ১৭৫টির বেশি অঞ্চলে সম্প্রচারস্বত্ব চুক্তি সম্পন্ন করেছে, তবে কয়েকটি বড় বাজার তখনও বাকি ছিল।

আসলে তখন পর্যন্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সঙ্গেও বিশ্বকাপ সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি ফিফা। অর্থাৎ ভারত ও চীনকে ধরলে বিশ্বের প্রথম, দ্বিতীয়, পঞ্চম, অষ্টম, ২৩তম ও ২৯তম সর্বাধিক জনবহুল দেশসহ এশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চল এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রায় ২০টি দ্বীপে ফিফা তাদের ‘সুখ’ পৌঁছাতে পারেনি। চলতি বছরের শুরুতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফুটবলকে ‘সুখ’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে– ‘ফুটবল এক ধরনের জাদুর যন্ত্র, যা মানুষকে মুহূর্তেই আনন্দিত করে তোলে।’ আর ফিফাকে ‘সুখ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান’ বলে উল্লেখ করেন ইনফান্তিনো।
দ্য অ্যাথলেটিক বলছে, ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব না পাওয়া দেশগুলোর বেশিরভাগই একই অঞ্চলের। এর কারণ পৃথিবী ফুটবলের মতোই গোলাকার– এক পাশে যখন সূর্য ওঠে, অন্য পাশে তখন গভীর রাত। বছরের এই সময়ে ভারত নিউইয়র্কের চেয়ে সাড়ে ৯ ঘণ্টা এবং চীন ১২ ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ এমন সময়ে শুরু হবে, যখন ভারতে গভীর রাত এবং চীনে ভোর। যা কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন পরিস্থিতি। কাতার ভারতের চেয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং চীনের চেয়ে ৫ ঘণ্টা এগিয়ে ছিল।
সময়সূচির সুবিধার কারণেই ২০২২ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ মালিকানাধীন ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ভায়াকম১৮ বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে ৬ কোটি ডলার খরচ করেছিল এবং তাদের জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে ম্যাচগুলো সম্প্রচার করা হয়। ভারতের ক্রীড়া ব্যবসাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্টেট অব প্লে’–এর তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় জিওসিনেমার মাসিক ইউনিক ভিজিটর ছিল ৩০ লাখেরও কম, যা ফাইনালের সময় বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছায়।
ওই চুক্তিতে অবশ্য ভায়াকম১৮ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিজ্ঞাপন থেকে তারা আয় করে মাত্র ৩ কোটি ডলারের মতো। ভারতীয় বাজার বোঝার জন্য বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জিওসিনেমার নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফি নিলেও সেটি বছরে মাত্র ১৪ ডলার। ভারতীয় গণমাধ্যম কোম্পানিগুলোর মূল আয় আসে বিজ্ঞাপন থেকে, সাবস্ক্রিপশন থেকে নয়। ফলে কাতার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শীতকালে এবং তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে সম্প্রচারিত হলেও, বিজ্ঞাপন আয় সম্প্রচারস্বত্বের খরচ তুলতে যথেষ্ট ছিল না। এখানেই দেখা দেয় ফিফার পরবর্তী সমস্যা। কাতারের মতো একই ধরনের চুক্তি করতে ভারতীয় বাজারে এসে তারা বুঝতে পারে, কাজটি সহজ হবে না!
টিজে/টিকে