© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ছেলেকে নতুন জীবন দিতে কিডনি দিচ্ছেন মা

শেয়ার করুন:
ছেলেকে নতুন জীবন দিতে কিডনি দিচ্ছেন মা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৩ পিএম | ১০ মে, ২০২৬
সন্তানের জন্য এক মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরায়। নিজের প্রাণের টুকরো ছেলে নাসিম জাহান আকাশকে বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি কিডনি দান করেছেন মা নাসিমা সুলতানা। হৃদয়ছোঁয়া এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়, আবেগাপ্লুত হয়েছেন সবাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাজিরা পৌরসভার উত্তর বাইকশা এলাকার বাসিন্দা আকাশ প্রায় নয় মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। এরপর থেকেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসার মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তার। ছেলের এমন অবস্থায় ভেঙে পড়লেও হার মানেননি মা নাসিমা সুলতানা। সন্তানের মুখে আবার হাসি ফেরাতে শেষ পর্যন্ত নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নাসিমা সুলতানা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

পরিবার জানায়, রোববার (১০ মে) রাত ১০টায় রাজধানীর শ্যামলীস্থ সিকেডি (CKD) হাসপাতালে আকাশের কিডনি প্রতিস্থাপন অপারেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অপারেশনটি পরিচালনা করবেন দেশের খ্যাতিমান কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও ইউরোলজিস্ট ডা. মো. কামরুল ইসলাম।

আকাশের বড় বোন বৃষ্টি আক্তার বলেন, আমার ভাইকে বাঁচানোর জন্য মা নিজের শরীরের একটি অংশ দিয়ে দিচ্ছেন। পৃথিবীতে মায়ের মতো আপন কেউ নেই। সবাই আমার মা ও ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।

আকাশের খালা শিবলি সুলতানা বলেন, আমরা আকাশের কিডনি সমস্যার কথা জানার পর ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু ওর মা স্বেচ্ছায় নিজের একটি কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন। ৬০ বছর বয়সে এই অপারেশন যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও আকাশের মা পিছপা হননি।

স্থানীয় ও প্রতিবেশী ইমরান হোসাইন বলেন, সন্তানের জীবন বাঁচাতে আকাশের মা নিজের শরীরের একটি কিডনি দান করেছেন। একজন মা শুধু সন্তানকে জন্মই দেন না, প্রয়োজনে নিজের শরীরের অংশ দিয়েও সন্তানের জীবন রক্ষা করেন। আকাশ হয়তো সারা জীবন মনে রাখবেন, একবার মা তাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন, আরেকবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন জীবন উপহার দিলেন।

এদিকে মা ও ছেলের সুস্থতা কামনায় স্থানীয় মসজিদে দোয়া করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের জন্য দোয়া চেয়ে পোস্ট করছেন অনেকে।

বিশ্ব মা দিবসে এই ঘটনা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে একজন মা নিজের জীবনকেও তুচ্ছ করে দিতে পারেন।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন