© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নওগাঁয় ৪০ মণের সোনা-মানিকের দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা

শেয়ার করুন:
নওগাঁয় ৪০ মণের সোনা-মানিকের দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১০ পিএম | ১১ মে, ২০২৬
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকৃতির কোরবানির গরু নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে এসেছে ‘সোনা-মানিক’ নামে একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। প্রায় ৪০ মণ ওজনের গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে নানা বয়সী মানুষ।

উপজেলার আধাইপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফরের বাড়িতে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের ষাঁড়টি।

দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছে সেটি ছোটখাটো পাহাড়ের মতো মনে হয়। কালো ও লাল রঙের মিশেলে গড়া গরুটির শক্তপোক্ত গঠন সহজেই নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের।

মালিকের দাবি, নেপালিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি, অর্থাৎ ৪০ মণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করছেন।

গরুর মালিক আবু জাফর বলেন, “‘সোনা-মানিক’কে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করেছি। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ করা হয়নি। ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া খাইয়েই প্রায় চার বছর ধরে লালনপালন করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয়। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে যাচ্ছেন। তিনি গরুটির দাম চেয়েছেন ১২ লাখ টাকা। উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করবেন বলে জানান।’

স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জু জানান, প্রতিবছরই আবু জাফরের পরিবার বড় আকৃতির গরু পালন করে থাকেন।

তবে এবার ‘সোনা-মানিক’ আকার ও ওজনের কারণে আলাদা করে সবার নজর কেড়েছে।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা দেলোয়ার বলেন, ‘আমি গতকাল ষাঁডটি দেখতে আবু জাফরের বাড়ি গিয়েছিলাম। ষাঁড়টির ওপর নজর পড়তেই মনে হলো কোনো হাতি দাঁড়িয়ে আছে। সেলফি তুললাম, ভিডিও করলাম আমার কাছের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন দেখানোর জন্য।’

বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, “এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় ৫৪ হাজার ৮২০টি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আধাইপুর ইউনিয়নের ‘সোনা-মানিক’ নামের ষাঁড়টি ইতিমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে। মালিক যেন ন্যায্যমূল্য পান, সেটিই প্রত্যাশা।”
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ‘সোনা-মানিক’কে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত গরুটি কত দামে বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এসএন 

মন্তব্য করুন