© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মা-সন্তানের সম্পর্কের ওপরে আর কোনো সম্পর্ক নেই: ডলি জহুর

শেয়ার করুন:
মা-সন্তানের সম্পর্কের ওপরে আর কোনো সম্পর্ক নেই: ডলি জহুর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৩২ পিএম | ১১ মে, ২০২৬
মা-সন্তানের সম্পর্কের ওপরে আর কোনো সম্পর্ক নেই বলে মনে করেন বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুর। আলাদা করে ‘মা দিবস’ উদযাপন করে এই সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার কোনো অর্থ হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক মা দিবস ঘিরে গ্লিটজের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মা ও সন্তানের সম্পর্ক এমন এক বন্ধন, যার ব্যাখ্যা শব্দে করা সম্ভব নয়। আলাদা করে মা দিবস বা মাকে সন্তান নিয়ে প্রশ্ন করার কোনো উত্তর হয় না। পৃথিবীতে মা-সন্তানের রিলেশনের ওপর আর কোনো রিলেশন নেই। জীবনের শুরু থেকে মাথা পর্যন্ত সন্তান আর মায়ের মধ্যেই সমস্ত কিছু।’

ডলি জহুরের ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। দেশের বাইরে থাকা ছেলেকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিনই ছেলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। কোনো দিন কথা না হলে অস্থির লাগে তার।

ডলি জহুর বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে প্রতিদিন ফোন করি, প্রতিদিন তার সঙ্গে কথা বলি। খোঁজ না পেলে ভালো লাগে না। একবার কথা না বললে মনে হয়, ও শুয়ে পড়বে, তাড়াতাড়ি ফোন দিই।’

এসময় ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের মজার দিকও তুলে ধরেন তিনি।

ডলি জহুর বলেন, ‘ছেলে বরাবরই অপেক্ষায় থাকে মায়ের ফোনের জন্য। ও সবসময় আশা করে আমি ফোন দেব। যার জন্য নিজে অনেক সময় ফোন দেয় না। আমি কল দিতে দেরি করলে পরে আবার বলে, ‘তুমি কোথায় ছিলা? আমি তো তোমাকে খুঁজতেছি।’ তখন বলি, বাবা শুটিংয়ে ছিলাম, তাই দেরি হয়ে গেছে।’

বর্তমানে শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, কাজের চাপে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। তখন ছেলের ঘুমিয়ে পড়ার আগেই ফোন দেওয়ার তাড়া অনুভব করেন তিনি।

কথায় কথায় উঠে আসে দেশের বাইরে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার প্রসঙ্গও। ডলি জহুর প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ায় যান। গিয়ে কয়েক মাস থেকেও আসেন। ছেলেও দেশে আসেন, তবে বড় ছুটি নিয়ে আসতে পারেন না।

ডলি জহুর বলেন, ‘দুই বছর আগে মা দিবসে ছেলের কাছে ছিলাম, সেখানে এক স্কুলে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। আমি আসলে খুবই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি মন টানে ছেলের কাছে চলে যেতে। আবার দেশের জন্য পিছুটান কাজ করে।

একটা দোটানার মধ্যে থাকি। মনে হয় যাই, আবার মনে হয় না, যাব না। এই মানসিক অবস্থাটা খুব কষ্টের।’



তিনি বলেন, যখন কাছে থাকে না প্রতিদিনই ভিডিও কলে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের দেখা যায়। ভিডিওতে সবাইকে দেখতে পাই, কিন্তু সামনে যাওয়াটা অন্যরকম। ওদের সান্নিধ্য পাওয়াটাই আসল ব্যাপার। ছেলে আসে তবে অনেক বড় ছুটি নিয়ে আসতে পারে না। তখন মনে হয় আমি গেলে তো অনেক বড় ছুটি নিয়ে যেতে পারি।’

তবে দেশে থেকেও কাছের মানুষদের ভালোবাসা পান বলেই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন এই অভিনেত্রী।

‘এখানে আমার যে ছেলে-মেয়েরা আছে, তাদের খুব কাছে পাই। চাইলেই দেখা হয়। এই আনন্দটাও অন্যরকম। সবাই মা বলে ডাকে, আদর করে। এখনো এই বয়সে কাজ করে যাচ্ছি, সবার ভালোবাসা পাচ্ছি। এটা একজন মা হিসেবে হোক একজন অভিনেত্রী হিসেবে হোক আমার প্রতি সবার যে সম্মান এটাই বড় পাওয়া, এর জন্য আলাদা মা দিবসের প্রয়োজন হয় না।’

নাটক ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই মায়ের চরিত্রে ডলি জহুরের অভিনয় দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন, একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। এছাড়াও ২০২১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে।

এসএন 

মন্তব্য করুন