‘অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে’
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৬ পিএম | ১১ মে, ২০২৬
বর্তমান ডিজিটাল যুগে জনপ্রিয়তার মাপকাঠি এখন শুধুই সংখ্যা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার কত, ইউটিউব কিংবা স্পটিফাইয়ে কত মানুষ গান শুনছেন এই হিসাব মেলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন আধুনিক সময়ের সংগীতশিল্পীরা। গানের সুর বা লয়ের চেয়ে এখন ‘অ্যালগরিদম’ সামলানোই যেন বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সংগীতশিল্পীদের এই কঠিন বাস্তব ও মানসিক সংকটের কথা তুলে ধরলেন ওপার বাংলার সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল।
বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার ঘোষণা ভক্তদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এমনকি শ্রেয়া নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বিরতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, ‘আর ভালো লাগছে না।’ এবার সেই ভালো না লাগার পেছনের এক বড় কারণ স্পষ্ট করলেন তিনি।

শ্রেয়ার মতে, বর্তমান সময়ে শিল্পীদের নিজেদের সৃজনশীলতার চেয়ে বেশি ভাবতে হয় ডিজিটাল পরিসংখ্যান নিয়ে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাঁদের শিল্পীসত্তার ওপর। গানের দিকে শতভাগ মনোযোগ দেওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ছে এই কৃত্রিম প্রতিযোগিতার কারণে।
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে শ্রেয়া বলেন, ‘আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। তখন এই ডিজিটাল মাধ্যমের কোনো চাপ ছিল না। মানুষ তখন শুধু গানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমাদের গ্রহণ করতেন। সেই অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’
তবে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ শিল্পী ও সুরকারদের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করতে ভোলেননি। তার মতে, ‘আজকের শিল্পীরা একদিকে ভালো গান তৈরি করছেন, অন্যদিকে শ্রোতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং একই সঙ্গে নিজেদের রেওয়াজ ও শিল্পচর্চাও চালিয়ে যাচ্ছেন যা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।‘
এসএন