© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিদ্যমান বাণিজ্য নীতি ও শুল্কের কারণে বছরে ভোক্তার ক্ষতি ২০ বিলিয়ন ডলার: পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট

শেয়ার করুন:
বিদ্যমান বাণিজ্য নীতি ও শুল্কের কারণে বছরে ভোক্তার ক্ষতি ২০ বিলিয়ন ডলার: পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:০৬ এএম | ১২ মে, ২০২৬
বাংলাদেশে বিদ্যমান বাণিজ্য নীতিতে রপ্তানি-বিরোধী পক্ষপাত, অতিরিক্ত ও উচ্চ সুরক্ষামূলক শুল্কের কারণে বছরে ভোক্তার ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ও শুল্ক নীতিতে জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে ‘বাণিজ্য নীতি, শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগের প্রভাব ও ভোক্তা কল্যাণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। 

অনুষ্ঠানে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাশরুর রিয়াজ এবং রাশেদা কে চৌধুরীসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধে পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, বাংলাদেশে গড় শুল্কহার বর্তমানে ২৮ শতাংশ, যা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর গড় শুল্কহারের (৭ শতাংশ) চেয়ে চার গুণ বেশি। অতিরিক্ত প্যারা-ট্যারিফ যুক্ত হওয়ায় কার্যকর শুল্কহার অনেক ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের পর টাকার মান ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হওয়ায় আমদানি করা পণ্যের দাম এমনিতেই বেড়েছে। তার ওপর উচ্চ শুল্ক স্তর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। শিল্পনীতিতে ‘ট্রেড পলিসি ডুয়ালিজম’ বা বাণিজ্য নীতির দ্বৈততা বিদ্যমান। তৈরি পোশাক খাত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা পেলেও অন্যান্য রপ্তানি খাত উচ্চ শুল্কের কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

ড. সাত্তার জানান, আমদানি বিকল্প শিল্পে ২৮ শতাংশ সুরক্ষা থাকলেও রপ্তানি খাতে ভর্তুকি মাত্র ৭ শতাংশ। এই অসামঞ্জস্যতার কারণে পোশাক খাতের বাইরে অন্য খাতের রপ্তানি স্থবির হয়ে আছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সংরক্ষণবাদ চিরকাল চলতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্পকে অনির্দিষ্টকাল সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা। এখন নীতি তৈরির চেয়ে বাস্তবায়নে বেশি নজর দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিল্প সুরক্ষা দেওয়ার নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন ও ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ শুল্ক কাঠামো সহজীকরণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বাণিজ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় শুল্কনীতি ২০২৩ দ্রুত বাস্তবায়ন করা, বিনিময় হার নীতির সঙ্গে বাণিজ্য নীতির সমন্বয় নিশ্চিত করা; এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা; ধাপে ধাপে শুল্কহার হ্রাস করে বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে আসা এবং রপ্তানি নীতির পাশাপাশি ভোক্তা কল্যাণকে বাণিজ্য নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন