যেকোনো সময় কিউবায় হামলা চালাতে পারে ট্রাম্প!
ছবি: সংগৃহীত
১২:১৪ পিএম | ১২ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ কিউবায় যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কিউবা সরকারের ওপর ট্রাম্প ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছেন এবং তার এই হামলার হুমকি যেকোনো সময় বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এই শঙ্কার কথা।
হামলার এই শঙ্কার মধ্যেই গত শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরী কিউবার কাছাকাছি মোতায়েন করা হতে পারে। ঘনিষ্ঠজনদের কাছে তিনি দাবি করেছেন, রণতরীটি কাছাকাছি নিয়ে গেলে কিউবা আত্মসমর্পণ করবে। এর আগে গত সপ্তাহে সিএনএন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই কিউবার আকাশে নজরদারি বিমানের তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেও কিউবায় হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সেসময় ইরানে স্থানান্তরিত হওয়ায় তা আর ঘটেনি। অবশ্য এক্সিওসের ওই প্রতিবেদনে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
সামরিক হুমকির পাশাপাশি কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যাকে 'গণহত্যার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের ওপর সামগ্রিক শাস্তি' বলে আখ্যা দিয়েছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে গত কয়েক মাস ধরেই কিউবার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণ করার পর কিউবার সংকট আরও ঘনীভূত হয়, কারণ কিউবা তাদের চাহিদার বেশিরভাগ তেল ভেনেজুয়েলা থেকেই পেত।
ট্রাম্প প্রশাসন যদি সত্যিই দেশটিতে হামলা চালায়, তবে তা হবে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা। ওই বছর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশটিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল।
এমআই/এসএন