© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজে জ্বালানি পরিবহনে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করল ইরাক ও পাকিস্তান

শেয়ার করুন:
হরমুজে জ্বালানি পরিবহনে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করল ইরাক ও পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৯ পিএম | ১৩ মে, ২০২৬
ইরাক ও পাকিস্তান সঙ্গে পৃথক চুক্তি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে ইরান। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তেহরানের সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের ক্লদিও স্টয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে এমন এক অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে, যেখান থেকে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে। যদিও শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করতে চেয়েছিল, এখন সেই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান এখন হরমুজ বন্ধ করার বদলে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করছে। হরমুজ আর নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, এটি এখন নিয়ন্ত্রিত করিডর। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাক সাধারণত নিজেদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। ফলে প্রণালির অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ছিল তারা। অপরদিকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও উপসাগরীয় জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মুখে পড়েছে।

বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে হওয়া এক অপ্রকাশিত চুক্তির আওতায় রোববার (১০ মে) ইরাকের তেলবাহী বিশাল দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার প্রতিটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

ইরাকি তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ভবিষ্যতে আরও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমোদন নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরাক। কারণ দেশটির বাজেট আয়ের ৯৫ শতাংশই তেল রপ্তানিনির্ভর।

তিনি আরও বলেন, ইরাক ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরাকের অর্থনীতির অবনতি হলে সেটি ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একইভাবে, ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে পৃথক সমঝোতার পর কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি ট্যাংকার পাকিস্তানের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে দুটি শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র। যুদ্ধের আগে পাকিস্তান প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো পেত। এখন গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে তাদের ওপর চাপ বেড়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ইরান বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)'কে এই জাহাজ চলাচলের জন্য ইরাক বা পাকিস্তান সরাসরি কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। কাতার সরাসরি এই চুক্তিতে জড়িত না থাকলেও পাকিস্তানমুখী চালানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই অবহিত করেছিল বলেও জানায় তারা।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। এ জন্য তারা ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদে প্রবেশাধিকারের দাবি জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব দাবিকে 'আবর্জনা' বলে মন্তব্য করেছেন, ফলে সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলমান সংঘাত শুরুর আগে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে স্বাভাবিকের মাত্র ৫ শতাংশে। সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ায় এলএনজির দামও প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন