© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাজি সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেন ডিসি ফরিদা

শেয়ার করুন:
হাজি সেলিমের ২০ বছরের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেন ডিসি ফরিদা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৬ পিএম | ১৩ মে, ২০২৬
খাসজমি দখল করে টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় গড়ে তোলা হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।

বুধবার (১৩ মে) ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, লালবাগ মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবহার করে আসছিল মদিনা গ্রুপ। এ ঘটনায় উচ্ছেদ মোকদ্দমা ৭৭/২০২৫-এর আলোকে গত ১৩ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) দখল পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি ইস্যু করেন।

এরপর দখলদার পক্ষ উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করে স্থগিতাদেশ নেয়। তবে সরকারপক্ষ সিভিল বিবিধ মামলা দায়ের করলে গত ১২ মে চেম্বার জজ আদালত আগের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন।

আদালতের ওই আদেশের পরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে সরকারি জমির দখল পুনরুদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সরকারি জমি দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সরকারি জমি উদ্ধার করেছি এবং এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অবৈধভাবে এসব জমি দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ফরিদা খানম বলেন, নিঃসন্দেহে এ অভিযান দখলদারদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। বছরের পর বছর সরকারি জমি দখল করে যারা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের এ অভিযানকে সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অবশেষে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে সরকারি জমি উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন