হরমুজ ‘উন্মুক্ত’ রাখার ব্যাপারে একমত ট্রাম্প-জিনপিং: হোয়াইট হাউস
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৩ পিএম | ১৪ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একমত হয়েছেন যে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং হরমুজ প্রণালী ‘অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে’। এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। খবর সিবিএস নিউজ ও এনবিসি নিউজ।
বেইজিংয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকের শুরুতে জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে সামাল দেয়া হলে দুই দেশের সম্পর্ক ‘বিপজ্জনক পথে’ যেতে পারে।
চীনের রাজধানীতে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া এই বৈঠককে ট্রাম্প ‘সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন’ বলে উল্লেখ করেন। ২০১৭ সালের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শি জিনপিং বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্যই উপকারী। তিনি বলেন, ‘আমরা সহযোগিতা করলে উভয় পক্ষ লাভবান হয়, আর মুখোমুখি সংঘাতে গেলে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
এরপর রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং গভীর ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, দুই দেশ আরও বেশি সহযোগিতার দিকে এগোবে।
ট্রাম্প জিনপিং-কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি একজন মহান নেতা। অনেকে হয়তো আমার এ কথা বলা পছন্দ করে না, কিন্তু আমি তবুও বলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছেন, এটি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক।’
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের আলোচনা ‘সমগ্রভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফল’ দিয়েছে।
জানা গেছে, গত অক্টোবর ট্রাম্প ও শি’র মধ্যে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বহাল রাখা এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলতেই এই আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গও তোলেন শি জিনপিং। চীনের দাবি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিষয়টি ভুলভাবে পরিচালিত হলে তা সংঘাত ও ‘চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে পরে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেও ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেনে ছবি তোলার সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, তারা তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা করেছেন কি না, কিন্তু ট্রাম্প জবাব দেননি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্যমতে, দুই নেতা বাণিজ্য ও কৃষিখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের একসঙ্গে চা-চক্র ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে গেছেন কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ীও। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াং। চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের লক্ষ্যেই তারা সফরে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, জিনপিংয়ের কাছে তার প্রথম অনুরোধ হবে চীনের বাজারকে আরও বেশি মার্কিন শিল্পের জন্য উন্মুক্ত করা। বৈঠকে ট্রাম্প ওই ব্যবসায়ীদের জিনপিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। জবাবে জিনপিং বলেন, ‘চীনের উন্মুক্ততার দরজা আরও বড় হবে’ এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এসকে/টিকে