রাজবাড়ীতে মাটিচাপা অবস্থায় মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৮ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এক নারী ও তার শিশুকন্যার মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন- জাহানারা বেগম এবং তার মেয়ে সামিয়া আক্তার। গত ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তারা।
নিহতদের বাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কর্ণসোনা গ্রামে। জাহানারার স্বামী আমজাদ শেখ ইটভাটার শ্রমিক। স্ত্রী জাহানারা একই ইটভাটায় রান্নার কাজ করতেন। ঢাকার একটি ইটভাটায় কাজ শেষে প্রায় ২০ দিন আগে পরিবারটি গ্রামে ফেরে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে আমজাদের ফুফাতো ভাইয়ের চল্লিশার অনুষ্ঠানে পাশের গ্রামে যান জাহানারা ও তার মেয়ে সামিয়া। এরপর তারা আর বাড়ি ফেরেননি। স্বজনদের খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করতে যান আমজাদ । তবে এনআইডি কার্ড না থাকায় অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা যতিনবদ্দি এলাকায় একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কুকুর মাটি খুঁড়ে একটি মরদেহের পা বের করে আনলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে প্রথমে জাহানারার মরদেহ এবং তার নিচে শিশু সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ দাবি করেন, ইটভাটায় কাজ করার সময় তার স্ত্রী একটি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার কয়েকবার বিরোধও হয়। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, জাহানারা ও তার মেয়ে নিখোঁজের পর থানায় একটি অভিযোগ নিয়ে আসেন আমজাদ। তবে সঙ্গে এনআইডি না থাকায় তাকে এনআইডি নিয়ে আসতে বলি। এরপর সে আর থানায় আসেনি। এ ছাড়াও পুলিশ সদস্যরা তার বাড়িতে দুইদিন গিয়েছেন, তারপরও সে থানায় আসেনি। পরে এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
এসকে/এসএন