© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশালদেহী ‘যুবরাজ’কে বের করতে ভাঙতে হবে দেয়াল

শেয়ার করুন:
বিশালদেহী ‘যুবরাজ’কে বের করতে ভাঙতে হবে দেয়াল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০২ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে পঞ্চগড়ে কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বিশাল আকৃতির হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘যুবরাজ’। প্রায় ৪০ মণ ওজনের বিশালদেহী এই ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ।

পঞ্চগড় পৌরশহরের কাগজিয়া পাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কাশেম আবুর খামারে বেড়ে ওঠা ‘যুবরাজ’-এর বয়স প্রায় পাঁচ বছর। খামারির দাবি, ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কেজি বা ৪০ মণ। দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি।

খামারি আবুল কাশেম জানান, জন্মের পর থেকেই যুবরাজ গোয়ালঘরের ভেতরেই রয়েছে। একদিনের জন্যও বাইরে বের করা হয়নি তাকে। খাওয়া, গোসলসহ সব ধরনের পরিচর্যাই করা হয় ঘরের ভেতরে। তিনি ও তার স্ত্রী সানোয়ারা খাতুন নিজের সন্তানের মতো করে ষাঁড়টির যত্ন নিয়েছেন।

তারা জানান, যুবরাজকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ কেজি দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘাসও দেওয়া হয়। দিনে অন্তত দুইবার গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে।

আবুল কাশেম বলেন, ২০১৯ সালে শখের বসে পাঁচটি গাভী দিয়ে খামার শুরু করি। বর্তমানে আমার খামারে ৩৫টি গরু আছে। যুবরাজের জন্ম ২০২১ সালে। তখন থেকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করছি। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি।

তিনি আরও বলেন, যুবরাজের জন্য ১৫ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি। ভালো দাম পেলে বিক্রি করে দেব। তবে এতদিন ধরে লালন-পালন করায় বিক্রি করতে কষ্ট লাগবে।

বিশাল আকৃতির কারণে এখন যুবরাজকে গোয়ালঘরের দরজা দিয়ে বের করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, আমার গেট সাড়ে তিন ফুট। এই গেট দিয়ে যুবরাজ বের হবে না। তাকে বের করতে হলে দেয়াল ভাঙতে হবে।

প্রতিবেশী খমির আলী বলেন, আবুল কাশেম খুব যত্ন করে খামারটি গড়ে তুলেছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুগুলোর পেছনে সময় দেন। নিজের হাতে খাবার খাওয়ান, পরিচর্যা করেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মরিয়ম রহমান বলেন, যুবরাজকে ঘিরে এলাকায় বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ষাঁড়টি লালন-পালনে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকেও খামারিকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

সন্তানের মতো লালন-পালন করা যুবরাজকে বিক্রি করতে খামারির কষ্ট হলেও কোরবানির হাটেই সেটি বিক্রি করতে চান তিনি। বিশালাকৃতির এই ষাঁড়কে ঘিরে এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন