© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা ইরান ফুটবল দলের?

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা ইরান ফুটবল দলের?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫০ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
আগামী ১১ জুন পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের। বৈশ্বিক এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগে ভিন্ন এক কারণে আলোচনায় আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও অংশগ্রহণকারী দেশ ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যেই সব ঠিক থাকলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে ইরান। প্রায় ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতি নতুন করে সামনে আনছে পুরোনো এক স্মৃতি।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। সেই উত্তেজনার মধ্যেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের লিওঁ শহরে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল ইরান। তবে ম্যাচটি শুধু ফুটবল নয়, রাজনৈতিক কারণেও আলোচিত ছিল। ম্যাচের আগে দুই দলের খেলোয়াড়রা উপহার বিনিময় করেছিলেন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি, এই ম্যাচ দুই দেশের দূরত্ব কমানোর পথে একটি পদক্ষেপ হবে।’

সেই ম্যাচ থেকেই শুরু হয় নতুন এক উদ্যোগ। কানাডা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যোগাযোগ পরিচালক মেহরদাদ মাসউদি ও যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হ্যাঙ্ক স্টেইনব্রেখার ঠিক করেন, দুই দেশকে আবারও মাঠে নামানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসে ইরান।

তবে এই সফর আয়োজন মোটেও সুখকর ছিল না। ইরানের শর্ত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর খেলোয়াড়দের আঙুলের ছাপ বা ছবি তোলা যাবে না। শুরুতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এতে রাজি হয়নি। পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ অনুমতিতে জট কাটে।

লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত সেই সফরে ইরান খেলেছিল মেক্সিকো, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। কিন্তু ম্যাচের আগে-পরে নিরাপত্তা নিয়ে ছিল চরম উদ্বেগ। ইরানি কর্মকর্তারা প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন। এমনকি এফবিআইকে নিরাপত্তার জন্য ভুয়া টিম বাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছিল।

সব উত্তেজনা ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ হাজার দর্শক, যাদের বড় অংশই ছিলেন ইরানি অভিবাসী। সেদিন মার্কিন স্টেডিয়ামের চারপাশে হ্যামবার্গারের বদলে বিক্রি হয়েছিল ইরানি কাবাব। 

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন