কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোকাহত ক্রীড়াঙ্গন
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫২ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার স্ব নামেই পরিচিত ছিলেন। এরপরও বাবা সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ ও দাদী কিংবদন্তি দাবাড়ু রাণী হামিদ ছিল তার বাড়তি পরিচয়। তাই কারিনার মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনেও বইছে শোকের আবহ।
ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (শুক্রবার) মধ্যরাতে মৃত্যুবরণ করেন কারিনা। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকে গতকাল রাতেই এই দুঃসংবাদ পেয়েছেন। আবার অনেকে আজ সকালে উঠে এ খবর শুনে ব্যথিত হয়েছেন।

উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ। ৫০ বছর বাংলাদেশের দাবার সঙ্গে জড়িত তিনি। চার দশকের বেশি সময় ধরে রানী হামিদের সঙ্গে তার পরিচয়। সেই সুবাদে নাতনি কারিনা কায়সারকে খুবই কাছ থেকে দেখেছেন এই গ্র্যান্ডমাস্টার। প্রাণোচ্ছ্বল কারিনার মৃত্যুতে খুবই ব্যথিত নিয়াজ, ‘কারিনা খুবই প্রাণবন্ত ছিল। হঠাৎ এত দ্রুত অসুস্থতা, লাইফ সাপোর্টে চলে গেল। শুনলাম বিদেশে একটু উন্নতি করেছে, এরই মধ্যে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেল। আমারই খুব কষ্ট লাগছে সেখানে কারিনার পরিবারের জন্য, এই শোক কাটিয়ে উঠা খুবই কঠিন।’
কারিনার বাবা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মোহামেডানেরই ঘরের ছেলে। কায়সার হামিদের অনেক দিনের সতীর্থ সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির কারিনার মৃত্যুতে অত্যন্ত বিমূঢ়, ‘আমাদের চোখের সামনেই কারিনা বেড়ে উঠেছে। বাবার (কায়সার হামিদ) সঙ্গে মোহামেডান ও ক্রীড়াঙ্গনের অনেক অনুষ্ঠানেও আসত। সেই ছোট্ট কারিনা নিজের যোগ্যতায় দেশব্যাপী জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছিল। কীভাবে কি হয়ে গেল..।’
কারিনার পরিবার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। তার দাদা কর্নেল এমএ হামিদ ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের সভাপতি। বাংলাদেশের হ্যান্ডবলে প্রসারের পেছনে তার অবদান অনেক। কারিনার ছোট চাচা ভাই ববি হামিদও হ্যান্ডবল খেলেছেন। কারিনার মৃত্যু হ্যান্ডবল অঙ্গনকেও স্পর্শ করেছে। অলিম্পিক ডিসিপ্লিন স্কোয়াশ বাংলাদেশে তেমন জনপ্রিয় নয়। এই খেলার উন্নয়নে কাজ করেছেন কায়সার হামিদের আরেক ভাই সোহেল হামিদ। তিনি এই ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কারিনার মৃত্যুতে স্কোয়াশ খেলোয়াড় ও সংগঠকদেরও স্পর্শ করেছে।
কারিনার মা লোপা কায়সার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। স্বামী ও শ্বাশুড়ির সূত্রে লোপারও ক্রীড়াঙ্গনের অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ঠতা। গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডে নাম লেখানো বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ টিটির কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু লোপার বন্ধু। কারিনার মৃত্যু লিনুকে যেন স্তব্ধই করে দিয়েছে, ‘লোপা ভারত থেকে আমাকে গতকাল এই খবর দেয়। এরপর থেকে এতটা খারাপ ও বিষন্ন বোধ করছি যা বলার মতো নয়।’
সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ ও তার মা রাণী হামিদের সঙ্গে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ। সেই সূত্রে কারিনাকেও চেনা অনেক সাংবাদিকের। মাত্র ৩১ বছর বয়সে কারিনা সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যাওয়ায় সাংবাদিকরাও শোকাহত।
এসএ/এসএন