ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র‘যুক্তরাষ্ট্রের ভণ্ডামির সাম্রাজ্য বিশ্বকে আর ঠকাতে পারবে না’
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৯ পিএম | ১৬ মে, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ঔপনিবেশিকতাবিরোধী বিখ্যাত লেখক এইমে সেজায়ারের উক্তি উদ্ধৃত করে পশ্চিমাদের নৈতিক পতন, ভণ্ডামি এবং নিজেদের তৈরি যুদ্ধ ও আধিপত্যকামী নীতির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
শনিবার (১৬ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই সেজায়ারের বিখ্যাত গ্রন্থ 'ডিসকোর্সেস অন কলোনিয়ালিজম' থেকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কিছু অংশ ভুলে ধরেন।
ইসমাইল বাঘাই লিখেছেন, যে সভ্যতা নিজের তৈরি সমস্যাগুলো সমাধান করতে অক্ষম, তা একটি ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতা; যে সভ্যতা তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে চোখ বন্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, তা একটি অসুস্থ সভ্যতা।
ভণ্ডামির ওপর ভর করে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্যগুলো যে একসময় বিশ্বকে প্রতারিত করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে-সেজায়ারের এমন সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেন ইরানি মুখপাত্র। বাঘাই বলেন, 'যে সভ্যতা নিজের নীতির সঙ্গে ছিনিমিনি খেলে, তা একটি মৃতপ্রায় সভ্যতা।"
তিনি আরও যোগ করেন, ক্রমশই এটি এমন এক ভণ্ডামির আশ্রয় নিচ্ছে যা অত্যন্ত ঘৃণ্য, কারণ এটি দিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার সম্ভাবনা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ যখন পশ্চিমা জোটের ভেতরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাকে গভীর করছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এলো।
ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব প্রাথমিকভাবে যাকে ইরানকে চূর্ণ করা এবং রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার একটি নিষ্পত্তিমূলক যুদ্ধ হিসেবে চিত্রিত করেছিল, তা এখন কোনো স্পষ্ট জয় ছাড়াই একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
কয়েক মাসের বোমাবর্ষণ, নিষেধাজ্ঞা, নৌ-চাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা সত্ত্বেও ইরান রাজনৈতিকভাবে অটুট এবং সামরিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রেখেছে তেহরান।
এই উসকানিমূলক যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও জরুরি জ্বালানি সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ওয়াশিংটনের এই সামরিক তৎপরতায় সরাসরি যোগ দিতে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অনিচ্ছা দেখা যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত সরকার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অভিযান সম্প্রসারণের আহ্বান প্রকাশ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের আশঙ্কা, তারা এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে যা ক্রমশ বেপরোয়া এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
একই সময়ে তেহরান এটিও প্রমাণ করেছে যে, তাকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সমস্ত পশ্চিমা চাপ ও নৌ-হুমকি উপেক্ষা করে ইরান চীনের সাথে সামুদ্রিক পথ সমন্বয় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শক্তি প্রদর্শনের সীমাবদ্ধতা ও তাদের দুর্বলতাকে বিশ্বমঞ্চে আরও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
টিজে/টিএ