আইপিএল ইতিহাসে কেউ যা পারেননি, তাই করে দেখালেন ফিন অ্যানেল
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৭ এএম | ১৭ মে, ২০২৬
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শনিবার (১৩ মে) রাতে ব্যাট হাতে আবারও ঝড় তুললেন ফিন অ্যালেন। গুজরাট টাইটানসের দুর্বল ফিল্ডিংয়ের পুরো সুযোগ কাজে লাগিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তোলে চলতি মৌসুমে নিজেদের সর্বোচ্চ ২৪৭/২। আর সেই বিধ্বংসী ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেন। মাত্র ৩৫ বলে ৯৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
ইনিংসের শুরুতেই দু’বার জীবন পান অ্যালেন। ১৪ ও ৩৩ রানে তাকে ক্যাচ মিস করে গুজরাট। সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় বড়ভাবেই। ১০টি ছক্কা ও ৪টি চার মেরে অ্যালেন গড়েন বিধ্বংসী এক ইনিংস, যেখানে তার ৮৬ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে। তথ্য এনডিটিভির।
চলতি মৌসুমে এটি ছিল অ্যালেনের দ্বিতীয় ১০ ছক্কার ইনিংস। ফলে আইপিএলের ইতিহাসে এক মৌসুমে দু’বার ১০ ছক্কা হাঁকানো প্রথম ব্যাটার হলেন তিনি। চলতি আইপিএলে ৯ ম্যাচে তার ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াল ২৭-এ, যা কেকেআরের হয়ে অভিষেক মৌসুমে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে ফিল সল্ট করেছিলেন ২৪টি ছক্কা। এখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সনৎ জয়সুরিয়ার ২০০৮ সালের ৩১ ছক্কার রেকর্ড ভাঙতে অ্যালেনের প্রয়োজন আর মাত্র পাঁচটি ছক্কা।
অ্যালেন ঝড় তোলার পর ইনিংসের শেষভাগে গতি ধরে রাখেন অংক্রিশ রঘুবংশী ও ক্যামেরন গ্রিন। তৃতীয় উইকেটে মাত্র ৫৩ বলে ১০৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। রঘুবংশী খেলেন ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস, আর গ্রিন অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে।
গুজরাটের ফিল্ডিং ছিল হতাশাজনক। ম্যাচে মোট চারটি ক্যাচ ফেলেন তারা। জীবন পাওয়া তিন ব্যাটার অ্যালেন, রঘুবংশী ও গ্রিন; তিনজনই ফিফটি তুলে নিয়ে গুজরাটকে বড় শাস্তি দেন।

বৃষ্টির কারণে ঢাকা থাকা স্টিকি উইকেটে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেনি দলটির বোলাররা। বাজে ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে বোলিংয়েও ছিল ছন্দহীনতা।
জেসন হোল্ডারের বলে মোহাম্মদ সিরাজের হাত ফসকে ১৪ রানে জীবন পাওয়ার পর থেকেই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন অ্যালেন। কাগিসো রাবাদার গতির বিপক্ষে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ১১ বলে পৌঁছে যান ২৮ রানে।
অন্যদিকে অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। ১৪ বলে ১৪ রান করে সিরাজের বলে বোল্ড হন তিনি। তবে এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি কেকেআরকে।
রশিদ খানের বিপক্ষে দুই ছক্কা ও এক চার মেরে মাত্র ২১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন অ্যালেন। রঘুবংশীও সমানতালে রান তুলতে থাকেন। তরুণ এই ব্যাটার রাবাদার বলে উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে দারুণ এক স্কুপ শটে নজর কাড়েন। মনে হচ্ছিল শতকের দিকেই এগোচ্ছেন অ্যালেন। তবে শেষ পর্যন্ত সাই কিশোরের বলে ডিপ মিডউইকেটে রশিদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি। শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিন তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে গুজরাটের বোলারদের ওপর আরও চাপ বাড়ান। রঘুবংশীও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। তাতেই বিশাল সংগ্রহ পায় কলকাতা।
টিজে/টিকে