সকালের ৭ অভ্যাসেই সুস্থ থাকবে আপনার লিভার
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৩ এএম | ১৭ মে, ২০২৬
শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অঙ্গগুলোর একটি লিভার। আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে দেয় লিভার। এছাড়াও চর্বি ভাঙা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পুষ্টি জমা রাখা পর্যন্ত বিভিন্ন জটিল কাজ সামাল দেয় এই অঙ্গটি। কিন্তু সমস্যা হলো, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত বেশিরভাগ মানুষ এর যত্ন নেয়ার কথা ভাবেন না। অথচ প্রতিদিন সকালের কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসই লিভারকে রাখতে পারে সুস্থ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরের সময়টুকু শরীরের জন্য এক ধরনের ‘রিসেট’ মুহূর্ত। রাতে বিশ্রামের সময় লিভার শরীর পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যায়। তাই দিনের শুরুটা ঠিকভাবে করলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। তাই সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি লিভারের জন্য বেশ উপকারী। এটি হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করে, রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে। অনেকে লেবু মিশিয়ে পানি পান করেন। যদিও লেবু সরাসরি লিভার ‘ডিটক্স’ করে না, তবে এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে।
সকালের হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম শুধু শরীরই চাঙা করে না, লিভারের কাজেও সহায়তা করে। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে, শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ ভালো হয় এবং শরীরের বর্জ্য দ্রুত বের হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। এমনকি ১০-১৫ মিনিটের হালকা ব্যায়ামও মেটাবলিজম উন্নত করতে কার্যকর।
লিভারের জন্য সেরা নাশতা বেছে নিন
সকালের খাবার পুরো দিনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই অতিরিক্ত চিনি বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে আঁশ, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া ভালো। ওটস, লাল চাল, মিলেট, ফল, ডিম, টকদই বা ডালজাতীয় খাবার লিভারের ওপর চাপ কমায় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে নিয়মিত জাঙ্ক ফুড বা চিনি বেশি খেলে দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পরিমিত কফি হতে পারে উপকারী
অনেকেই মনে করেন কফি লিভারের জন্য ক্ষতিকর। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি বরং লিভারকে সুরক্ষা দিতে পারে। কফিতে থাকা কিছু উপাদান লিভারের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম মেশানো কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনে এক থেকে দুই কাপ সাধারণ কফি যথেষ্ট।
ঘুমের সময় ঠিক রাখুন
লিভারের কাজ শরীরের ‘বডি ক্লক’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। রাত জাগা বা অনিয়মিত ঘুম লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে শুধু লিভার নয়, হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো থাকে।
‘ডিটক্স’ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করবেন না
বাজারে নানা ধরনের ‘লিভার ডিটক্স’ ড্রিংক বা সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভার নিজেই শরীর পরিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে। তাই অযথা এসব পণ্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেয়া বেশি কার্যকর।
সকালে এক গ্লাস পানি, কিছুক্ষণ হাঁটা, স্বাস্থ্যকর নাশতা ও নিয়মিত ঘুম এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই দীর্ঘমেয়াদে লিভারকে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ধীরে ধীরে এসব অভ্যাস শরীরের শক্তি বাড়ায়, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
টিজে/টিকে