© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিংয়ের ফাঁকে কোঁকড়ানো চুল, যশোরে নজর কাড়ছে বিশালদেহী ষাঁড় ‘নেইমার’

শেয়ার করুন:
শিংয়ের ফাঁকে কোঁকড়ানো চুল, যশোরে নজর কাড়ছে বিশালদেহী ষাঁড় ‘নেইমার’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৫ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
দুই শিংয়ের মাঝখানে কোঁকড়ানো চুল। চুলগুলো দেখতে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমারের মতো হওয়ার কারণে তার নামেই রাখা হয়েছে ষাঁড়টির নাম। শুধু তাই নয়; বিশাল আকার এই ষাঁড়টি রশিতে না বেঁধেই ছেড়ে রাখা হয়। স্বাভাবেও শান্ত এই নেইমার। তবে কখনও কখনও বলে হেড দেওয়ার মতো করে শিং দিয়ে মালিককে গুঁতিয়ে কিংবা খেতে দেওয়া পাত্রে লাথি দিয়ে নানা ভঙ্গিমায় মেতে থাকে ৩৫ মণের এই ষাঁড়টি।

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার বিশালদেহী ষাঁড়টির দেখা মিলেছে। ঈদের আগে বিক্রির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৩৫ মণ ওজনের ষাঁড়টির দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।

বিশালদেহী ষাঁড়টির শরীর কিছুটা বাদামী রঙের আর মাথা, মুখ ও গলার সামনের অংশ দেখতে সাদাটে। পা, পেট আর বাদামী রঙের শরীরে কয়েকটি সাদাটে স্ট্রাইপ যোগ করেছে বাড়তি চেহারা। মাথার সামনের চুলের স্টাইল বেশ খানিকটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমারের মতো। মূলত এ কারণেই শখ করে মালিক ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘নেইমার’।



নেইমারকে দেখতে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই এক নজর নেইমারকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন , কেউ আবার ভিডিও করছেন।

ষাঁড়টির মালিক যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডাঙামশিয়াহাটি গ্রামের নিরাঞ্জন পাঁড়ের ছেলে দেবু পাঁড়ে (৩৩)। তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই পশু পালনের প্রতি তার আগ্রহ থাকায় গরু পরিচর্যায় তিনি বাবা-মাকে সহযোগিতা করতেন। এরপর পড়াশোনা শেষ করে ২০২২ সাল থেকে তিনি পারিবারিক খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে ৬টি গরু আছে তার খামারে। তার মধ্যে ষাঁড় আছে দুটি। তাদের খাদ্য তালিকায় রাখা হয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুড়া, সামান্য ভাত ও সবুজ ঘাস। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার ও তিনবার করে গোসল করাতে হয় নেইমারকে।

দেবু পাড়ে বলেন, ‘তিন বছরের অধিক সময় ধরে ভালবাসা আর শ্রম দিয়ে নিজের ছেলের মত করে লালন-পালন করছি নেইমারকে। উঁচু দেহ, আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন এবং মাথার সামনের চুলের বিশেষ স্টাইলের কারণে ‘ফেলেক্স ভি জাতের’ এই গরুটি সহজেই অন্য যে কোনো গরু থেকে আলাদা নজর কাড়ছে। বর্তমানে নেইমারের ৩৫ মণ ওজন হতে পারে। অনেকেই গরুটি কেনার জন্য দাম জানতে চেয়েছেন। ভালো দাম না বলায় ষাঁড়টি এখনও বিক্রি করতে পারিনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঈদের আগেই ষাঁড়টি বিক্রি হবে। আমি ১২ লাখ টাকা হলে ছেড়ে দেব।

রোববার সকালে দেবু পাড়ের বাড়িতে দেখা যায়, বাড়ির পশ্চিম পাশে টিনের তৈরি একটি গোয়াল ঘরের পাশে ছাদ দেওয়া একটি প্রশস্ত কক্ষ। এই কক্ষেই নেইমার একাই থাকে। সেখানে মাঝে ষাঁড়টি ঘোরাফেরা করছে। ষাঁড়টির গলায় কোনো দড়ি না থাকায় মাঝে মাঝে ঘর থেকে উঠানে বেরিয়ে পায়চারি করছে আর ফেলে রাখা ঘাস ও পাত্রে রাখা খাবার খাচ্ছে। গরুটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের হওয়ায় এবং কারও ক্ষতি না করায় সাধারণত গরুটিকে বেঁধে রাখা হয় না। আশপাশের বেশ কয়েকজন এসেছে গরুটি দেখতে।

ষাঁড়ের মালিক দেবু পাড়ের আঙ্গিনাতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের প্রতিবেশী অমিও ধর। তিনি জানান, পরম মমতা আর যত্নে দেবু ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। বিক্রি হবে জেনে বিশালাকৃতির ষাঁড়টি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে দেখতে আসছেন।

ষাঁড়টির দেখাশোনায় দেবুকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেন তার মা ইতি পাড়ে। তিনি বলেন, গরুটি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে উঠেছে। বিক্রির কথা উঠতেই খারাপ লাগছে। কিন্তু কী করব? আর্থিক প্রয়োজনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ষাঁড়টিকে আমি দেখতে গিয়েছিলাম। আদর করে ওরা ষাঁড়টিকে নেইমার বলে ডাকে। বিশালাকৃতি তবে ওজন মাপা হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে দেবু ও তার পরিবার নেইমারকে বড় করে তুলেছেন। আশা করছি বিক্রি করে তিনি উপযুক্ত মূল্য পাবেন।’

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন