© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জনগণ সচেতন হলে ২ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব: ডিএসসিসি প্রশাসক

শেয়ার করুন:
জনগণ সচেতন হলে ২ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব: ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৫ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
জনগণ সচেতন হলে ২ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে জনগণ সচেতন না হলে ২৫ বছরেও পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

রোববার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা : বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে রাজধানীতে ট্রাফিক জট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু বক্তব্য দিলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বলাটা সহজ, কিন্তু কার্যকর করাটা অনেক কঠিন। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কঠিনকে সহজভাবে নিয়ে কাজ করেন এবং ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সমস্যা শুধু সিটি করপোরেশনের কারণে সৃষ্টি হয়নি। নাগরিকদের অসচেতন আচরণও এর জন্য দায়ী। আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতাম, তাহলে অনেক সমস্যাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১৫ দিনব্যাপী জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। কোথায় কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জনগণ সচেতন হলে ২ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে জনগণ সচেতন না হলে ২৫ বছরেও পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, সমন্বয়ের অভাবে একই রাস্তা বারবার কাটতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডিতে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কেবল লাইন একসঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুরো ঢাকা শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার খাল ও জলপথ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তত ১৫-২০টি আউটলেটের মাধ্যমে পানি শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে নিউমার্কেটের মতো নিচু এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে।

আবদুস সালাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এখন বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। যেখানে ১৫-২০ লাখ মানুষের বসবাসের কথা, সেখানে এখন কোটি মানুষ বসবাস করছে। এতে হকার ও যানজট সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাসা থেকেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তিনি বলেন, একদিনে রাজধানীতে লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়, যা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে রক্ষা করতে হলে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব জনগণের এবং ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি করপোরেশন একা কিছু করতে পারবে না।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন