© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর আলোচনায় 'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ', ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব কী?

শেয়ার করুন:
ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর আলোচনায় 'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ', ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব কী?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪৪ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
দুই পরাশক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর আলোচনায় ঐতিহাসিক তত্ত্ব 'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ'। সম্প্রতি, বৈঠকটিতে এ পরিভাষা ব্যবহার করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই ফাঁদে পড়া উচিৎ নয় বলে সতর্কও করেন তিনি। দুই শক্তিধর দেশের মধ্যকার উত্তেজনা যাতে যুদ্ধে না গড়ায়; সে বিষয়ে সতর্ক করতেই আলোচিত এই থিওরির প্রসঙ্গ টানেন জিনপিং।

মূলত, বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ যেন আবারও জমে উঠেছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বৈঠকে। ইতিহাস, তত্ত্ব আর বর্তমান ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনে বেইজিংয়ের এই বৈঠক হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের শুরুতেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১ অব্দের এথেন্স–স্পার্টা সংঘাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, আধিপত্য বিস্তারের ইতিহাস আজও বিশ্ব রাজনীতিতে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ভূ-রাজনীতির বহুল আলোচিত 'থুসিডাইডিস ট্র্যাপ' তত্ত্বের ধারণাটি জনপ্রিয় করেন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রাহাম অ্যালিসন। তার 'ডেস্টিনড ফর ওয়ার' বইয়ে এই ধারণা বিশ্লেষণ করা হয়, যা মূলত প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের পর্যবেক্ষণ থেকে এসেছে।

২০১২ সালে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ লেখা এক নিবন্ধে অ্যালিসন লেখেন, ‘আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইডিসের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে পারবে কি না?’
এই তত্ত্বের মূল কথা হলো— যখন কোনো উদীয়মান শক্তি কোনো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে হটিয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, তখন প্রায়ই এর পরিণতি হয় যুদ্ধ।

সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিযোগিতাকে এই তত্ত্বের সবচেয়ে বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। চীনের দ্রুত উত্থান চ্যালেঞ্জ করছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক প্রভাবকে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহু বছর ধরেই এই শব্দ ব্যবহার করে আসছেন শি। তবে ট্রাম্পের সফরকালে এই তত্ত্বের অবতারণার উদ্দেশ্য হতে পারে তাইওয়ান প্রশ্নে নিজের অবস্থান আগেভাগেই জানান দেয়া। বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুকে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে তুলে ধরে চীন সতর্ক করে দেয়, এ বিষয়ে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে জানান, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও ইতিবাচক করার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। উল্লেখ্য, শি জিনপিং এই প্রথম ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’-এর প্রসঙ্গ তুললেন— বিষয়টা এমন নয়। আধুনিক ভূরাজনীতিতে শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে বিভিন্ন সময় এটি ব্যবহার করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন