© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বাড়াবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন:
কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বাড়াবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৪ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
শুল্ক কমানো, অশুল্ক বাধা দূর করা এবং বাজারে প্রবেশের জটিলতা কমানোর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে একমত হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর এই তথ্য জানিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সমঝোতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব তা চূড়ান্ত করা হবে। গত বছরের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কৃষিপণ্যের ওপর চীনের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এতে দুই দেশের কৃষিপণ্যের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কৃষিপণ্য আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৬৫.৭ শতাংশ কমে ৮৪০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কোন কোন পণ্যে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
গত অক্টোবরের বৈঠকের পর চীন আবার যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করে।

এর অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এক কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে বেইজিং। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু গম ও বিপুল পরিমাণ সরগাম আমদানি করেছে দেশটি। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সয়াবিনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কমানো হতে পারে। এতে চীনের বেসরকারি তেলবীজ প্রক্রিয়াজাতকারীরা আবারও মার্কিন সয়াবিন কেনা শুরু করতে পারবেন। গত মৌসুমে মূলত রাষ্ট্রীয় কম্পানিগুলো এসব পণ্য আমদানি করেছে।

বেইজিংভিত্তিক অ্যাগ্রাডার কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জনি শিয়াং বলেন, কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানো হলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে এবং বাণিজ্যিক ক্রেতারা বাজারে সক্রিয় হতে পারবেন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, অশুল্ক বাধা ও বাজারে প্রবেশসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য থেকে গরুর মাংস ও পোলট্রি রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনা কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিতে হয়। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। চীন জানিয়েছে, এসব উদ্বেগ দূর করতে তারা কাজ করবে। গত শুক্রবার বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ৪২৫টি গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানার নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আরো ৭৭টি মার্কিন স্থাপনাকে নতুন করে পাঁচ বছরের অনুমোদন দিয়েছে।

মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স গত শনিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, চীন গরুর মাংস আমদানি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অঙ্গরাজ্য থেকে আবার গরুর মাংস আমদানি শুরু হবে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আগামী তিন বছরে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের কৃষিপণ্য কিনবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।

এবি/টিএ


মন্তব্য করুন