প্রধানমন্ত্রীর পথসভার মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ এসপি আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৯ পিএম | ১৮ মে, ২০২৬
কুমিল্লার লাকসামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পথসভার মাইক খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাঠিয়ে সভামঞ্চ থেকে মাইক সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশ সেখান থেকে ফিরে যায়।
শনিবার দুপুরে লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ বাজারে প্রধানমন্ত্রীর পথসভাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। রোববার (১৭ মে) বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।
আবুল কালাম বলেন, চাঁদপুর সফরের পথে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজ এলাকার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পথসভার অনুরোধ জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে মুদাফফরগঞ্জ বাজারে সভার আয়োজন করা হয়।
তার অভিযোগ, সভার দিন সকালে এসপির নির্দেশে ডিবি পুলিশ এসে মঞ্চের মাইক খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে সরে যায়।
এমপি আবুল কালাম আরও বলেন, “এসপি আগে আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাবশালী ছিলেন, এখন তিনি বিএনপি সাজতে চেষ্টা করছেন। বিষয়টি আমি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান প্রথমে ফোন কল কেটে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে এই ঘটনার পর এসপি আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে পূর্বে ওঠা আরেকটি অভিযোগও আবার সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ২৬ই নভেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসপির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে কেরানীগঞ্জের অপরাধ কমাতে ২০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করে ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর। তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ওই চেক গ্রহণ করেন।
সেসময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, চেক হস্তান্তরের পর সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আর দেখা যায়নি। তাদের দাবি ছিল, পুরো ১০ কোটি টাকারই কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি।
৫ আগস্টের পর তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে বদলি করা হলে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের দায়িত্বে আসেন আহমেদ মুয়ীদ। পরে আহমেদ মুয়ীদের পদোন্নতিজনিত বদলি হলে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন বর্তমান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানকে।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও দৈনিক আমার দেশের অই প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে রেকার রশিদ ছাপানো, ঘুস কেলেঙ্কারি ও বদলি বাণিজ্যেসহ আরও একাধিক অভিযোগ উঠে আসে ।
টিকে/