বিজ্ঞাপনের জন্য জুলাই গ্রাফিতি মুছে এখন মিথ্যা বলছেন চসিক মেয়র: এনসিপি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৪ পিএম | ১৮ মে, ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।
গ্রাফিতি অপসারণকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আজ সোমবার বিকেলে নগরের ষোলশহর স্টেশন চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মহানগর শাখার সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার থেকে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনের জন্য মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরে সমালোচনার মুখে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার উদ্দেশ্যে সেগুলো সরানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পিলারে নতুন গ্রাফিতি আঁকার পরিকল্পনা থাকলে সেখানে ‘বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে’—এমন স্টিকার লাগানো হতো না।
মেয়র পিলারগুলো বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দিতে চেয়েছিলেন। এখন জুলাইয়ের পক্ষের মানুষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় চাপে পড়ে তিনি মিথ্যা বলছেন।’
তিনি আরও বলেন, গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে আমরা মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। সেসময় মেয়র জানান, পিলারগুলোতে গ্রাফিতি থাকবে না, অন্য কোথাও আঁকার ব্যবস্থা করা হবে।
আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, ‘তিনি যদি তখন বলতেন, পিলারেই নতুন গ্রাফিতি হবে, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
মেয়র খালি জায়গা পেলেই দোকান করে দিচ্ছেন। বিপ্লব উদ্যানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়িয়ে মানুষের হাঁটার জায়গা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যর্থ মেয়র, তার পদ ছাড়ার কথা ভাবা উচিত’, বলেন তিনি।
এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে মেয়র নগরজুড়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে জনপরিসর সংকুচিত করছেন। গ্রাফিতিগুলো মুছে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিতে চেয়েছেন। মানুষের হাঁটার জায়গাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, আজ দুপুর ২টার দিকে টাইগারপাস মোড়ে গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। আগের রাতে একই এলাকায় গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার সারাদিন টাইগারপাসসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি।
অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, মহানগরের কোথাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত কোনো গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
ইউটি/টিএ