© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রয়টার্সের প্রতিবেদনট্রাম্পের ক্রিপ্টো সাম্রাজ্যে ইরানের ছায়া, নেপথ্যে কোন রহস্য?

শেয়ার করুন:
ট্রাম্পের ক্রিপ্টো সাম্রাজ্যে ইরানের ছায়া, নেপথ্যে কোন রহস্য?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪৮ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘নোবিটেক্স’ ট্রন এবং বিএনবি চেইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কমপক্ষে ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। মজার বিষয় হলো, এই দুটি ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতারা আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। 

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় নীতি এবং তার ব্যক্তিগত ব্যবসার মধ্যকার এক অস্বস্তিকর ও সাংঘর্ষিক অবস্থানকে আবারও সামনে এনেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের পর থেকে ট্রন ও বিএনবি চেইনের মাধ্যমে এ বিপুল অংকের লেনদেন করেছে ইরানের নোবিটেক্স। ক্রিপ্টো ধনকুবের জাস্টিন সান ও চ্যাংপেং ঝাওয়ের হাত ধরে যথাক্রমে ট্রন ও বিএনবি চেইনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারীরা ফি দিয়ে থাকেন। সবচেয়ে বড় ‘আইরনি’ বা ভাগ্যের পরিহাস হলো-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ চলাকালীনও এ দুটি ডিজিটাল লেজারের মাধ্যমে ইরানি অর্থ অবাধে লেনদেন হয়েছে।

অন্যদিকে, জাস্টিন সান এবং চ্যাংপেং ঝাওয়ের মালিকানাধীন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘বাইনান্স’-উভয় পক্ষই ট্রাম্প ও তার পরিবারের সহ-প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো ফার্ম ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর শীর্ষ সমর্থক। তবে ট্রন বা বিএনবি চেইনকে যে নোবিটেক্স ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প পরিবার আগে থেকে জানত-এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তা সত্ত্বেও, ইরানের এই লেনদেনগুলো ট্রাম্পের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ইন্টারনেট এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সাবেক প্রধান জন রিড স্টার্ক এই ঘটনাকে ‘নাটকীয় পরিহাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধে যাদের পরাজিত করতে চাচ্ছেন, ঠিক সেই পক্ষগুলোই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ক্রিপ্টো অর্থায়ন করছে। অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসন এ ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি রয়টার্সকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থার যোগসূত্র খোঁজার এ অদ্ভুত চেষ্টা সম্পূর্ণ হাস্যকর। 

অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড লিবার্টির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নোবিটেক্সের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা মার্কিন আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

ক্রিপ্টো অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘আরখাম’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নোবিটেক্স ট্রন নেটওয়ার্কে ২০০ কোটি ডলার এবং বিএনবি চেইনে ৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের লেনদেন করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনবি চেইনের মাধ্যমে অন্তত ২ কোটি ২৬ লাখ ডলার এবং ট্রনের মাধ্যমে ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ নোবিটেক্সের হাত ঘুরে এসেছে।

আরআই/টিএ 

মন্তব্য করুন