হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা চালু
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৪ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নতুন একটি সংস্থা চালু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকার মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নামে এই সংস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রথম বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহন তদারকির জন্য এটিই ইরানের আনুষ্ঠানিক ও আইনগত কর্তৃপক্ষ। এতে আরো সতর্ক করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য এখন থেকে ইরানের সামরিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অনুমতি ছাড়া এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান সাম্প্রতিক ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ) গঠনের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচলের প্রবেশাধিকার দাবি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পরে পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় ইরান নতুন আরেকটি ১৪ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়, যার জবাব এখনো ট্রাম্প দেননি।
এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নতুন এই কর্তৃপক্ষের ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে এক্সে সেটি পুনরায় শেয়ার করেছে।
প্রকাশনার সময় পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টটির প্রায় ৩৫ হাজার অনুসারী ছিলেন এবং এটি ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ১২টি অ্যাকাউন্টকে অনুসরণ করছিলেন। এর মধ্যে সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি এবং সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলী লারিজানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টও রয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচল সমন্বয়, সামুদ্রিক ট্রানজিট রুট এবং প্রণালি দিয়ে চলাচল-সম্পর্কিত জাহাজ পরিষেবাগুলোর তত্ত্বাবধান করবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এখন থেকে নির্ধারিত করিডর অনুসরণ করতে, জলপথে প্রবেশের আগে অনুমতি নিতে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পণ্য ও নাবিকদের বিবরণ জমা দিতে হতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর সম্ভাব্য পরিষেবা ফি আরোপ করা হতে পারে।
ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, এই নতুন ব্যবস্থা ইরানের ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের’ অধীনে তৈরি করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল নৌপথগুলোর একটি। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত করে। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়, তাই এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই কার্যত এই অঞ্চলে নৌ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও চাপ বাড়িয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান সম্প্রতি প্রণালির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এলাকা পূর্বের জাস্ক থেকে পশ্চিমের সিরি দ্বীপ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে। তবে এখনো ইরান নতুন এই কর্তৃপক্ষের আইনি কাঠামো বা ক্ষমতার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
এমআর/এসএন